Dhaka 1:41 pm, Thursday, 5 November 2026

পার্বতীপুরে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে উত্তর শালন্দার মাদ্রাসা 

স্টাফ রিপোর্টার ঃ আজ ৪ নভেম্বর বেলা ১ টা ২০ মিনিটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর শালন্দার পল্লী গ্রামে মনোরম পরিবেশে দ্বীনি শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ঘটাচ্ছে উত্তর শালন্দার ক্বাছারী হাফিজিয়া ও এতিমখানা মাদরাসা। প্লে থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জন ছাত্র ছাত্রী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। জানা গেছে,

মাদরাসাটি ২০১২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এলাকার জমি দাতাদের দানকৃত জমির উপর গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে হিফজ বিভাগ, কিতাবখানা ও জেনারেল বিভাগে একসাথে পাঠদান চলছে। প্লে থেকে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা তক্তি হাতে নিয়ে কোরআন শিক্ষা নিচ্ছে ও রাতের বেলায় রেহাল সামনে নিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করছে হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, হিফজ ও কিতাবখানা বিভাগ থেকে প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী পাগড়ি গ্রহণের কৃতিত্ব অর্জন করছে। অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষে ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথকভাবে বসিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। উল্লখ্য বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা বর্তমানে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত হয়। সরকার কওমি ও আলিয়া উভয় ধারার শিক্ষার উন্নয়নে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং এতিমখানা ও হিফজখানার জন্য বিভিন্ন সময় অনুদান দিয়ে থাকে। তবে গ্রামীণ পর্যায়ের অনেক বেসরকারি হিফজখানা ও এতিমখানা এখনও সরকারি এমপিও ও স্থায়ী অনুদানের আওতার বাইরে থেকে স্থানীয় অনুদানে চলছে। এই মাদরাসার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হাফেজ মাওলানা জিকরুল ইসলাম জানান, স্হানীয়ভাবে দুই মৌসুমে চাঁদা কালেকশন করে আমরা এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নিয়ে এসেছি। অনেক সময় শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন দিতে পারি না, তারপরও শিক্ষকরা দ্বীনের খেদমত মনে করে পড়িয়ে হচ্ছেন বলে জানান। এদিকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকগণ। তারা বলেন, ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানটি যাতে সরকারি স্বীকৃতি, অবকাঠামো সহায়তা ও শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত বেতন-ভাতা পায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়াও তারা মনে করেন, পল্লী অঞ্চলে এ ধরনের দ্বীনি প্রতিষ্ঠান শুধু কোরআন শিক্ষাই দেয় না, বরং শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতেও বড় ধরনের ভূমিকা রাখছেন বলে উল্লেখ করেন।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কৈখালীতে ২নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে আলোচনায় সাবেক মেম্বারের ছেলে ওমর ফারুক যুবকদের আইকন হিসেবে পরিচিত*

পার্বতীপুরে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে উত্তর শালন্দার মাদ্রাসা 

Update Time : 06:54:37 pm, Wednesday, 4 November 2026

স্টাফ রিপোর্টার ঃ আজ ৪ নভেম্বর বেলা ১ টা ২০ মিনিটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের উত্তর শালন্দার পল্লী গ্রামে মনোরম পরিবেশে দ্বীনি শিক্ষার প্রচার ও প্রসার ঘটাচ্ছে উত্তর শালন্দার ক্বাছারী হাফিজিয়া ও এতিমখানা মাদরাসা। প্লে থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ জন ছাত্র ছাত্রী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছে। জানা গেছে,

মাদরাসাটি ২০১২ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এলাকার জমি দাতাদের দানকৃত জমির উপর গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে হিফজ বিভাগ, কিতাবখানা ও জেনারেল বিভাগে একসাথে পাঠদান চলছে। প্লে থেকে ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা তক্তি হাতে নিয়ে কোরআন শিক্ষা নিচ্ছে ও রাতের বেলায় রেহাল সামনে নিয়ে কোরআন তেলাওয়াত করছে হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, হিফজ ও কিতাবখানা বিভাগ থেকে প্রতি বছর ৪ থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী পাগড়ি গ্রহণের কৃতিত্ব অর্জন করছে। অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষে ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথকভাবে বসিয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। উল্লখ্য বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা বর্তমানে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় পরিচালিত হয়। সরকার কওমি ও আলিয়া উভয় ধারার শিক্ষার উন্নয়নে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং এতিমখানা ও হিফজখানার জন্য বিভিন্ন সময় অনুদান দিয়ে থাকে। তবে গ্রামীণ পর্যায়ের অনেক বেসরকারি হিফজখানা ও এতিমখানা এখনও সরকারি এমপিও ও স্থায়ী অনুদানের আওতার বাইরে থেকে স্থানীয় অনুদানে চলছে। এই মাদরাসার ক্ষেত্রেও একই চিত্র। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হাফেজ মাওলানা জিকরুল ইসলাম জানান, স্হানীয়ভাবে দুই মৌসুমে চাঁদা কালেকশন করে আমরা এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এগিয়ে নিয়ে এসেছি। অনেক সময় শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন দিতে পারি না, তারপরও শিক্ষকরা দ্বীনের খেদমত মনে করে পড়িয়ে হচ্ছেন বলে জানান। এদিকে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় অভিভাবকগণ। তারা বলেন, ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর এই প্রতিষ্ঠানটি যাতে সরকারি স্বীকৃতি, অবকাঠামো সহায়তা ও শিক্ষকদের জন্য নিয়মিত বেতন-ভাতা পায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এছাড়াও তারা মনে করেন, পল্লী অঞ্চলে এ ধরনের দ্বীনি প্রতিষ্ঠান শুধু কোরআন শিক্ষাই দেয় না, বরং শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতেও বড় ধরনের ভূমিকা রাখছেন বলে উল্লেখ করেন।