
“৩৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ—শেষে দুদকের জালে রাজ্জাক”
নিজস্ব প্রতিনিধি : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় এক অবিশ্বাস্য জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে, যা জনমনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অন্যের শিক্ষাগত সনদপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে প্রায় তিন দশক ধরে ব্যাটালিয়ন আনসার পদে চাকরি করে আসছিলেন আব্দুর রাজ্জাক (৫৯)। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা বাবদ ৩৭ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর সমন্বিত পাবনা জেলা কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রাজ্জাক পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলিপাড়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়ার মধুরগাতী গ্রামের ফয়েজ প্রামানিকের ছেলে আব্দুল মাজেদ মিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ব্যাটালিয়ন আনসার পদে যোগ দেন রাজ্জাক। এরপর দীর্ঘদিন নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে চাকরি চালিয়ে যান।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরিকালে প্রতারণার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব খাত থেকে মোট ৩৭ লাখ ২২ হাজার ৪৬১ টাকা ৮৪ পয়সা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
দুদক পাবনা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্র ধর জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষে ২০২১ সালে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। পরবর্তীতে বিষয়টি দুদকে পাঠানো হলে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পর দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন রাজ্জাক। দুদকের তলব উপেক্ষা করলেও বুধবার কার্যালয়ে হাজির হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার করেন।
পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এতো দীর্ঘ সময় ধরে এমন জালিয়াতি কীভাবে অদৃশ্য থেকে গেল—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের দাবি উঠেছে সচেতন মহলে।
Leave a Reply