
কথিত পরকীয়া কাণ্ডে আটক যুবক, মামলা নেই—জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিনিধি :
পাবনার খাঁনমরিচ ইউনিয়নের দাশমরিচ গ্রামে কথিত পরকীয়ার একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা, আলোচনা-সমালোচনা ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় জামাতের কর্মী জাহিদুল ইসলাম নামে এক যুবককে স্থানীয় জনতা আটক করে। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা না হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। উৎসুক জনতা অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামকে আটক করে রাখে। পরে ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি জিল্লুর মাস্টার, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, জাহিদুল ইসলাম খানমরিচ ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি জিল্লুর মাস্টারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও তার পিএস (ব্যক্তিগত সহকারী) হিসেবে পরিচিত। এ কারণেই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আরও বেশি আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এ সময় ঘটনাটি নিয়ে এক ধরনের ‘সমন্বয়’ বা আপসের মাধ্যমে মীমাংসা হয়েছে—এমন খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে বিতর্কের জন্ম নেয়। এরপর থেকেই স্থানীয়দের মুখে মুখে ঘুরছে নানা প্রশ্ন—“কিসের সমন্বয়?”, “কার সঙ্গে সমন্বয়?”, “কী শর্তে সমঝোতা?”—এসব প্রশ্ন এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শুরুতে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা থাকলেও পরে হঠাৎ করেই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে রহস্য ও সন্দেহ আরও বেড়েছে বলে তারা দাবি করেন।
তাদের ভাষ্য,
“ঘটনা যদি মিথ্যা হয় তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলো না কেন, আর সত্য হয়ে থাকলে মামলা হলো না কেন—এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিচ্ছে না।”
অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে খাঁনমরিচ ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট অফিসার মো. আল আমিন হোসেন জানান, তিনি বর্তমানে সরকারি কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। তবে এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন মহল থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, কোনো অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে গোপন সমঝোতা বা সামাজিক চাপে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হলে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি। অন্যথায় গুজব, বিভ্রান্তি ও সামাজিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
Reporter Name 










