
নওগাঁ প্রতিনিধি :
ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারা দেশের সঙ্গে নওগাঁয়ও শুরু হয়েছে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬। তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচিকে সফল করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর নওগাঁয়ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অভিযানের সূচনা করা হয়। সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফিরে আসে।
পরে অতিথিরা বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম এবং নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টি.এম.এ. মোমিন।
এ সময় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর বিস্তার ঠেকাতে জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, টবসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও যাতে দীর্ঘদিন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। তাই নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, প্রত্যেক নাগরিকের। সম্মিলিতভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বক্তারা আরও বলেন, ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।’ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত তিন মাসের কর্মসূচি সফল করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের জনগণকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এদিকে জেলার ১১টি উপজেলা প্রশাসন ও তিনটি পৌরসভায় একই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব এলাকায় র্যালি, আলোচনা সভা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান শুরু হয়। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।
এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়। এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মোঃ আব্দুল আজিজ শেখ 









