
রুহুল আমিন সুমন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ডাকাতদের ভয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারছে না অসহায় জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণ মুক্তিপণ আর সর্বস্ব লুট হওয়ার আতঙ্কে এখন সুন্দরবনের যেতে ভয় পাচ্ছেন উপকূলের হাজার হাজার জেলে। এতে শ্যামনগর উপজেলার ৫নং কৈখালী, গাবুরা মুন্সীগঞ্জসহ উপকূলীয় এলাকার জেলে পরিবারে নেমে এসেছে চরম হতাশা ও অনাহার।
স্থানীয় জেলেরা অভিযোগ করে বলেন সুন্দরবনে মাছ ধরতে গেলে এখন দুই দিক থেকে চাপ একদিকে বনদস্যুদের অত্যাচার অন্যদিকে প্রশাসনের কড়াকড়ি ডাকাতরা জেলেদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করছে। আর বন বিভাগ ড্রোন দিয়ে নজরদারি করে জেলেদের ধরছে, কিন্তু ডাকাতদের ধরতে পারছে না।
কৈখালীর জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা গরিব মানুষ। বনে না গেলে পেট চলবে না। কিন্তু এখন বনে গেলে ডাকাতের হাতে ধরা পড়তে হয়। আমাদের জাল, নৌকা, মাছ সব কেড়ে নেয়। মারধর করে। আমরা কার কাছে যাব।
আরেক জেলে শাহজাহান আলী বলেন সুন্দরবনে এখন ড্রোন উড়ে। ড্রোন দিয়ে দেখে আমরা কোথায় মাছ ধরছি, আমাদের জরিমানা করা হয়, নৌকা আটক করা হয়। কিন্তু ডাকাতরা কোথায় থাকে, ড্রোন দিয়ে দেখে তাদের কেন ধরা হয় না? জেলে ধরার জন্য ড্রোন আছে, ডাকাত ধরার জন্য ড্রোন নেই কেন? এটাই আমাদের প্রশ্ন?
জেলেদের দাবি ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যদি ডাকাতদের অবস্থান শনাক্ত করে যৌথ অভিযান চালানো হয় তাহলে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হবে কিন্তু তা না করে শুধুমাত্র সাধারণ জেলেদের হয়রানি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে নেতা বলেন ডাকাতরা সুন্দরবনের গভীরে অস্ত্র নিয়ে ঘোরে প্রশাসন জানে সবাই জানে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে জেলেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বনে যাচ্ছে, কেউ ফিরছে খালি হাতে, কেউ ফিরছে না।
উপকূলের জেলেরা অবিলম্বে সুন্দরবনে ডাকাত দমনে ড্রোন নজরদারি বাড়িয়ে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা এবং নিরীহ জেলেদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন
Reporter Name 


















