
নিজস্ব প্রতিবেদক , পাবনা
পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের পুষ্পপাড়া গরুর হাটে মুখোশধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাটের ইজারাদার আব্দুস সালামের কার্যালয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত দুজন হলেন হাটের ইজারাদার আব্দুস সালাম ও স্থানীয় বিএনপি নেতা রিপন হোসেন। তাঁরা সম্পর্কে মামা-ভাগিনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার হাটের খাজনা আদায় শেষে সন্ধ্যায় আব্দুস সালামের কার্যালয়ে বসে বৈঠক করছিলেন তাঁরা। এ সময় কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত সেখানে এসে তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ দুজনকে দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কোন বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
নিহত দুজনের রাজনৈতিক পরিচয়
নিহত রিপন হোসেন আতাইকুলা থানার ধর্মগ্রাম এলাকার মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। তিনি পাবনা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং আতাইকুলা ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ছিলেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে, নিহত আব্দুস সালাম একই এলাকার মৃত আরজ আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি পাবনা সদর উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। পাবনা জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার কলমের দর্পণকে জানান, আব্দুস সালাম নিয়মিত সংগঠনটির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করতেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করতে দেখা যায়। তিনি পদ থেকে পদত্যাগ করেননি বলেও জানান প্রদীপ কুমার।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুজনই পুষ্পপাড়া গরুর হাটের ইজারাদার ছিলেন। একই হাটকেন্দ্রিক তাঁদের কার্যক্রম থাকলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ইজারা, আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্য কোনো বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
বিএনপির নেতার শোক, জড়িতদের শনাক্তের দাবি
পাবনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু বলেন, রিপন হোসেন দলের একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দল শোকাহত। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, সে বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত নন। তবে দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান।
পূর্বশত্রুতার সন্দেহ পুলিশের
পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
তদন্তের অপেক্ষায় এলাকাবাসী
প্রকাশ্য স্থানে নয়, হাটের ইজারাদারের কার্যালয়ে বৈঠক চলাকালে এমন প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মুখোশধারী হামলাকারীরা কীভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছাল, হামলার পর কোন পথে পালিয়ে গেল এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক নাকি অন্য কোনো বিরোধ কাজ করেছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
দুই রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তির একসঙ্গে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বা স্থানীয় কোনো বিরোধের ভিত্তিতে আগাম সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। হামলাকারীদের শনাক্ত, হত্যার উদ্দেশ্য নির্ধারণ এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
Reporter Name 


















