Dhaka 11:59 pm, Wednesday, 28 October 2026

ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি স্মরণে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল ও বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

ইতিহাস স্মরণে, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়” এই দৃঢ় অঙ্গীকারকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা। সহকর্মীদের আত্মত্যাগ স্মরণ, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং লগি-বৈঠার তাণ্ডবে জড়িত খুনিদের শাস্তির দাবিতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, শহীদ রফিকের কবর জিয়ারত ও বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিপুল অংশগ্রহণে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কুড়িগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরে এসে এক সুবিশাল সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলজুড়ে খুনিদের বিচার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়ার সুসংগঠিত পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সম্মানিত আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানসহ সারা দেশে তৎকালীন আওয়ামী লীগ তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৭ জন বীর শহীদসহ সারা দেশে কমপক্ষে ৫৪ জন নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজপথে যে নজিরবিহীন বর্বরতা চালানো হয়েছিল, তা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। আমরা অবিলম্বে এসব হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল হোতা ও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ দৃষ্টান্তমূলক বিচার সুনিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথি ও স্থানীয় শীর্ষনেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলী সরকার এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল হাই।

অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন (আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের প্রধান অভিভাবক হিসেবে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা ও সভাপতিত্বে কুড়িগ্রাম জেলা শাখার দিনব্যাপী সকল কর্মসূচি ও বিশাল বিক্ষোভ মিছিল সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে খুনিদের বিচারের তাগিদ দেন।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম সেক্রেটারি, কুড়িগ্রাম শহর শাখা জামায়াতে ইসলামী

কুড়িগ্রাম শহর শাখা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের প্রত্যক্ষ তদারকি ও সুশৃঙ্খল দিকনির্দেশনায় শহরের মূল পথগুলোতে মিছিল ও সমাবেশের সুসংগঠিত শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তিনি শহর শাখার সর্বস্তরের কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

মোঃ মোশাররফ হোসেন সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা

ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে রাজপথে বিশাল ছাত্র সমাবেশ ও মিছিলের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন । তিনি তাঁর জোরালো বক্তব্যে তরুণ ও ছাত্রসমাজকে পল্টন ট্রাজেডির ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসিত সমাজ গঠনে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল পরিচালক, মিডিয়া সেল, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও আব্দুল আজিজ নাহিদ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাবেক আহ্বায়ক ও জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম পৌর শাখার ০৪ নং ওয়ার্ড সহকারী সেক্রেটারি সহ প্রমুখ নেতৃত্ব বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল। মিডিয়া সেলের পরিচালক ও সাবেক ছাত্রনেতা তার বক্তব্য বলেন । সমাবেশে উপস্থিত সংগ্রামী নেতাকর্মী ও ভাইদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,

“সংগ্রামী ভাইয়েরা, আপনারা কি প্রস্তুত? প্রয়োজনে আমরা আরও একটি ২৮শে অক্টোবর সৃষ্টি করব। দেশের মানুষের অধিকার আদায় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে আমাদের পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।”

তার এই তেজস্বী ও উদ্দীপ্ত বক্তব্য মুহূর্তেই উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। সমাবেশে উপস্থিত হাজারো জনতা হাত তুলে এবং নানা স্লোগানের মাধ্যমে তার এই আহ্বানের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সব শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা, আহতদের আরোগ্য এবং দেশের সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে।আয়োজন: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভিসার প্রলোভনে লিবিয়ায় মানবপাচার? উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বন্দিত্ব, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ—নেপথ্যে কারা?

ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি স্মরণে কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল ও বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত

Update Time : 09:50:09 pm, Wednesday, 28 October 2026

কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

ইতিহাস স্মরণে, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায়” এই দৃঢ় অঙ্গীকারকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা। সহকর্মীদের আত্মত্যাগ স্মরণ, শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং লগি-বৈঠার তাণ্ডবে জড়িত খুনিদের শাস্তির দাবিতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, শহীদ রফিকের কবর জিয়ারত ও বিশাল বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের বিপুল অংশগ্রহণে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কুড়িগ্রাম শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরে এসে এক সুবিশাল সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলজুড়ে খুনিদের বিচার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবিতে নানা স্লোগান দেওয়া হয়।

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ মিয়ার সুসংগঠিত পরিচালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের সম্মানিত আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানসহ সারা দেশে তৎকালীন আওয়ামী লীগ তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ড চালিয়ে জামায়াত-শিবিরের ৭ জন বীর শহীদসহ সারা দেশে কমপক্ষে ৫৪ জন নিরীহ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ২০০৬ সালের এই দিনে রাজপথে যে নজিরবিহীন বর্বরতা চালানো হয়েছিল, তা বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। আমরা অবিলম্বে এসব হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল হোতা ও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ দৃষ্টান্তমূলক বিচার সুনিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

সমাবেশে আমন্ত্রিত অতিথি ও স্থানীয় শীর্ষনেতাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ইয়াছিন আলী সরকার এবং সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আব্দুল হাই।

অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন (আমীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের প্রধান অভিভাবক হিসেবে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা ও সভাপতিত্বে কুড়িগ্রাম জেলা শাখার দিনব্যাপী সকল কর্মসূচি ও বিশাল বিক্ষোভ মিছিল সফলভাবে সম্পন্ন হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে খুনিদের বিচারের তাগিদ দেন।

অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম সেক্রেটারি, কুড়িগ্রাম শহর শাখা জামায়াতে ইসলামী

কুড়িগ্রাম শহর শাখা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের প্রত্যক্ষ তদারকি ও সুশৃঙ্খল দিকনির্দেশনায় শহরের মূল পথগুলোতে মিছিল ও সমাবেশের সুসংগঠিত শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তিনি শহর শাখার সর্বস্তরের কর্মী-সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

মোঃ মোশাররফ হোসেন সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা

ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে রাজপথে বিশাল ছাত্র সমাবেশ ও মিছিলের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোঃ মোশাররফ হোসেন । তিনি তাঁর জোরালো বক্তব্যে তরুণ ও ছাত্রসমাজকে পল্টন ট্রাজেডির ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসিত সমাজ গঠনে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল পরিচালক, মিডিয়া সেল, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও আব্দুল আজিজ নাহিদ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাবেক আহ্বায়ক ও জামায়াতে ইসলামী কুড়িগ্রাম পৌর শাখার ০৪ নং ওয়ার্ড সহকারী সেক্রেটারি সহ প্রমুখ নেতৃত্ব বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম জুয়েল। মিডিয়া সেলের পরিচালক ও সাবেক ছাত্রনেতা তার বক্তব্য বলেন । সমাবেশে উপস্থিত সংগ্রামী নেতাকর্মী ও ভাইদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,

“সংগ্রামী ভাইয়েরা, আপনারা কি প্রস্তুত? প্রয়োজনে আমরা আরও একটি ২৮শে অক্টোবর সৃষ্টি করব। দেশের মানুষের অধিকার আদায় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে আমাদের পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।”

তার এই তেজস্বী ও উদ্দীপ্ত বক্তব্য মুহূর্তেই উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। সমাবেশে উপস্থিত হাজারো জনতা হাত তুলে এবং নানা স্লোগানের মাধ্যমে তার এই আহ্বানের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের সব শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা, আহতদের আরোগ্য এবং দেশের সার্বিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে।আয়োজন: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কুড়িগ্রাম জেলা শাখা।