Dhaka 4:50 pm, Tuesday, 15 September 2026

প্রধান শিক্ষক নাকি হজ্ব এজেন্ট? ছুটি ছাড়াই সৌদি যাত্রায় প্রশ্নের মুখে শিক্ষা প্রশাসন

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:27:39 pm, Friday, 15 May 2026
  • 429 Time View

দোষারোপে শিক্ষা প্রশাসন, এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের রুপসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ছুটি ছাড়াই হজ্ব কাফেলা নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি হজ্ব এজেন্সির মোয়াল্লেম হিসেবে কাজ করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগেও শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি হজ্ব এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত থেকে হাজীদের কাফেলা পরিচালনা করে আসছেন। চলতি বছর গত ২৩ এপ্রিল ১৮ জন হাজী নিয়ে সৌদি আরব গমন করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, হাজীপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন পেয়ে থাকেন তিনি। এর আগেও একাধিকবার একইভাবে হজ্ব কাফেলা নিয়ে সৌদি গেছেন বলে জানা গেছে।

অথচ এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকারি বা বেসরকারি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এবার তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই সৌদি আরব গেছেন। এ নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে শুরু হয়েছে দায় এড়ানোর প্রবণতা।

প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে সানি ফোন রিসিভ করে জানান, “বাবা হজ্বে গেছেন। এজেন্সির সঙ্গে কিছু জটিলতা থাকায় প্রথম ধাপে ১৮ জন হাজী নিয়ে গেছেন। পরে আরও কয়েকজন যাবে। তবে এবার ছুটি নিয়ে অফিসিয়ালি কিছু সমস্যা হয়েছে।”

এদিকে প্রধান শিক্ষকের ইমো নম্বরে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, “স্যার আগেও হজ্বে গেছেন। এবারও কোনো রেজুলেশন ছাড়াই মৌখিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। তিনি কবে ফিরবেন সেটিও জানি না।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, “তিনি হজ্বে গিয়েছেন কি না, সেটি আমার জানা নেই। হজ্বে যাওয়ার আগে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। তবে ছুটি অনুমোদনের দায়িত্ব মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

অন্যদিকে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “ছুটি দেওয়ার দায়িত্ব মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার। তাই আমি কোনো ছুটি দেইনি। তবে যাওয়ার আগের দিন একটি আবেদন অফিসে জমা দিয়ে গেছেন, সেটি অনুমোদন হয়নি।”

সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “হজ্বে যেতে শিক্ষকদের ছুটির অনুমোদন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি দিয়ে থাকে। তবে তিনি কোনো হজ্ব এজেন্সিতে চাকরি করেন কি না, সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। কারণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অন্য কোনো চাকরি করার সুযোগ নেই।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নওগাঁর পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন রেঞ্জ ডিআইজির সম্মাননা ।

প্রধান শিক্ষক নাকি হজ্ব এজেন্ট? ছুটি ছাড়াই সৌদি যাত্রায় প্রশ্নের মুখে শিক্ষা প্রশাসন

Update Time : 10:27:39 pm, Friday, 15 May 2026

দোষারোপে শিক্ষা প্রশাসন, এমপিও নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ

ভাঙ্গুড়া প্রতিনিধি : পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের রুপসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে ছুটি ছাড়াই হজ্ব কাফেলা নিয়ে সৌদি আরব যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি হজ্ব এজেন্সির মোয়াল্লেম হিসেবে কাজ করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগেও শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে একটি হজ্ব এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত থেকে হাজীদের কাফেলা পরিচালনা করে আসছেন। চলতি বছর গত ২৩ এপ্রিল ১৮ জন হাজী নিয়ে সৌদি আরব গমন করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, হাজীপ্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমিশন পেয়ে থাকেন তিনি। এর আগেও একাধিকবার একইভাবে হজ্ব কাফেলা নিয়ে সৌদি গেছেন বলে জানা গেছে।

অথচ এমপিও নীতিমালার ১১.১৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকারি বা বেসরকারি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এবার তিনি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত ছুটি ছাড়াই সৌদি আরব গেছেন। এ নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে শুরু হয়েছে দায় এড়ানোর প্রবণতা।

প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কলেজপড়ুয়া ছেলে সানি ফোন রিসিভ করে জানান, “বাবা হজ্বে গেছেন। এজেন্সির সঙ্গে কিছু জটিলতা থাকায় প্রথম ধাপে ১৮ জন হাজী নিয়ে গেছেন। পরে আরও কয়েকজন যাবে। তবে এবার ছুটি নিয়ে অফিসিয়ালি কিছু সমস্যা হয়েছে।”

এদিকে প্রধান শিক্ষকের ইমো নম্বরে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, “স্যার আগেও হজ্বে গেছেন। এবারও কোনো রেজুলেশন ছাড়াই মৌখিকভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। তিনি কবে ফিরবেন সেটিও জানি না।”

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুজ্জামান বলেন, “তিনি হজ্বে গিয়েছেন কি না, সেটি আমার জানা নেই। হজ্বে যাওয়ার আগে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। তবে ছুটি অনুমোদনের দায়িত্ব মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

অন্যদিকে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “ছুটি দেওয়ার দায়িত্ব মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার। তাই আমি কোনো ছুটি দেইনি। তবে যাওয়ার আগের দিন একটি আবেদন অফিসে জমা দিয়ে গেছেন, সেটি অনুমোদন হয়নি।”

সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “হজ্বে যেতে শিক্ষকদের ছুটির অনুমোদন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি দিয়ে থাকে। তবে তিনি কোনো হজ্ব এজেন্সিতে চাকরি করেন কি না, সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। কারণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অন্য কোনো চাকরি করার সুযোগ নেই।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।