Dhaka 6:14 pm, Tuesday, 15 September 2026

“নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, বেতনে ফুলেফেঁপে! ১২ বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রধান শিক্ষক— ‘নিয়োগ নাটক”

  • Reporter Name
  • Update Time : 11:44:48 pm, Monday, 27 April 2026
  • 313 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা (ভাঙ্গুড়া):
নিয়ম যেন কেবল কাগজেই—বাস্তবে যেন চলছে উল্টো খেলা! পাবনার ভাঙ্গুড়ার অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ‘বিশেষ সুবিধায়’ পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করা মোঃ আনছার আলীর নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই ছিল গুরুতর গলদ। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি একাধিকবার প্রকাশ করা হলেও প্রথম বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতেই তার আবেদন গ্রহণ করা হয়—যেখানে তখন তার প্রয়োজনীয় ১২ বছরের অভিজ্ঞতা পূর্ণ হয়নি।
অডিটে যা উঠে এসেছে:
২০১১ সালের ৮ এপ্রিল আবেদন জমার শেষ তারিখে তার অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ১১ বছর ৩ মাস ৭ দিন। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজন ছিল পূর্ণ ১২ বছর। অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী তার আবেদন বাতিল হওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনকভাবে তা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিগুলোতেও আগের আবেদনকারীদের পুনরায় আবেদন করতে হয়নি—ফলে একই ‘অযোগ্য আবেদন’ থেকেই তার নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
তিনি সরকারি বেতন-ভাতার যোগ্য নন
২০১২ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তোলা ২১,১৭,৪০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য
পরবর্তী সময়ের বেতনও ফেরতের আওতায় পড়তে পারে
নীরব প্রধান শিক্ষক, ‘অবগত নন’ প্রশাসন!
ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক মোঃ আনছার আলীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়—যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
অন্যদিকে, ভাঙ্গুড়ার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিকুজ্জামান জানান,
“এ বিষয়ে এখনো অবগত নই, খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে।”
জনমনে ক্ষোভ ও বড় প্রশ্ন:
একজন অযোগ্য প্রার্থী কীভাবে বছরের পর বছর সরকারি বেতন তুলে গেলেন?
কোথায় ছিল তদারকি?
নিয়োগ কমিটি, নাকি প্রশাসনের কোনো স্তরে ‘চোখ বন্ধ’ ছিল?
আর এই অনিয়মের দায় শেষ পর্যন্ত নেবে কে?
সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি নিয়োগের অনিয়ম নয়—বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নওগাঁর পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন রেঞ্জ ডিআইজির সম্মাননা ।

“নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি, বেতনে ফুলেফেঁপে! ১২ বছরের অভিজ্ঞতা ছাড়াই প্রধান শিক্ষক— ‘নিয়োগ নাটক”

Update Time : 11:44:48 pm, Monday, 27 April 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা (ভাঙ্গুড়া):
নিয়ম যেন কেবল কাগজেই—বাস্তবে যেন চলছে উল্টো খেলা! পাবনার ভাঙ্গুড়ার অষ্টমনিষা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগকে ঘিরে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অডিট প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ‘বিশেষ সুবিধায়’ পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করা মোঃ আনছার আলীর নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই ছিল গুরুতর গলদ। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি একাধিকবার প্রকাশ করা হলেও প্রথম বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতেই তার আবেদন গ্রহণ করা হয়—যেখানে তখন তার প্রয়োজনীয় ১২ বছরের অভিজ্ঞতা পূর্ণ হয়নি।
অডিটে যা উঠে এসেছে:
২০১১ সালের ৮ এপ্রিল আবেদন জমার শেষ তারিখে তার অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র ১১ বছর ৩ মাস ৭ দিন। অথচ নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজন ছিল পূর্ণ ১২ বছর। অর্থাৎ নিয়ম অনুযায়ী তার আবেদন বাতিল হওয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনকভাবে তা গ্রহণ করা হয়। পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিগুলোতেও আগের আবেদনকারীদের পুনরায় আবেদন করতে হয়নি—ফলে একই ‘অযোগ্য আবেদন’ থেকেই তার নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।
তিনি সরকারি বেতন-ভাতার যোগ্য নন
২০১২ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত তোলা ২১,১৭,৪০০ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতযোগ্য
পরবর্তী সময়ের বেতনও ফেরতের আওতায় পড়তে পারে
নীরব প্রধান শিক্ষক, ‘অবগত নন’ প্রশাসন!
ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক মোঃ আনছার আলীর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়—যা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন।
অন্যদিকে, ভাঙ্গুড়ার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিকুজ্জামান জানান,
“এ বিষয়ে এখনো অবগত নই, খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে।”
জনমনে ক্ষোভ ও বড় প্রশ্ন:
একজন অযোগ্য প্রার্থী কীভাবে বছরের পর বছর সরকারি বেতন তুলে গেলেন?
কোথায় ছিল তদারকি?
নিয়োগ কমিটি, নাকি প্রশাসনের কোনো স্তরে ‘চোখ বন্ধ’ ছিল?
আর এই অনিয়মের দায় শেষ পর্যন্ত নেবে কে?
সচেতন মহলের মতে, এটি শুধু একটি নিয়োগের অনিয়ম নয়—বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন।