
নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা: মো: আরিফুল ইসলাম
রক্ষক যখন ভক্ষক—ঠিক সেই চিত্রই যেন ফুটে উঠেছে পাবনার ভাঙ্গুড়ায়। পুকুর সংস্কারের আড়ালে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাটি সিন্ডিকেট, আর সেই সিন্ডিকেটের ‘আলাদিনের চেরাগে’ চলছে অবৈধ মাটি বাণিজ্যের রমরমা কারবার।
উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া কবরস্থানের উত্তর পাশে (টেবুনিয়া-বাঘাবাড়ি মিনি বিশ্বরোড সংলগ্ন) এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে প্রকাশ্যেই চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কেটে কুতুবগাড়িতে ভরে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে—যেন দেখার কেউ নেই!
অভিযোগের তীর উঠেছে মাটি ব্যবসায়ী আব্দুল গনি মেম্বার, তথাকথিত সাংবাদিক মোঃ ইকবাল হোসেনের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চলছে এই অবৈধ কার্যক্রম; এমনকি আরো জানা যায় মো: ইকবাল হোসেন হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সংবাদপত্রে কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত নয় সরাসরি মাটির ব্যবসায়ী ক কাজে পরিচালনার সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে কোন মেম্বার তার ইউপি সদস্য হওয়ার বদৌলতে সরকারি বেসরকারি অর্থ আয় করার উৎস কে কাজে লাগিয়ে প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তার উদ্দেশ্য হাসিল করার প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায় কলমের দর্পণ , মানবজমিন, সহ আরো জাতীয় পত্রিকায় “বাস্তবে রাস্তা নেই তবে কাগজ কলমে রাস্তা” শিরোনামে প্রকাশিত হয় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকার থাকা ১৩ নম্বর সিরিয়ালের প্রকল্প অনুযায়ী পার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলি পাড়া গ্রামের লুৎফর রহমানের বাড়ির পাকা রাস্তা থেকে বাবুর বাড়ি পাকা রাস্তা পর্যন্ত।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বেপরোয়া কুতুবগাড়ির দাপটে সড়ক এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। পথচারীদের জীবন ঝুঁকিতে, রাস্তাঘাট ভেঙে চুরমার—চলাচল হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। অথচ প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই, যা নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউনুস নামের এক ব্যক্তির পুকুর সংস্কারের অজুহাতে এই কাজের চুক্তি নেওয়া হলেও নেই কোনো বৈধ অনুমোদন। তবুও অদৃশ্য প্রভাবের ইঙ্গিতে আইন-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে অবৈধ মাটি বাণিজ্য।
উল্লেখ্য, একই উপজেলার দুধবাড়িয়া এলাকায় অনুরূপ অপরাধে ইতোমধ্যে জরিমানার নজির থাকলেও এই ঘটনায় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
অভিযুক্ত আব্দুল গনি মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করেই চলছে এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন,
“মৌখিকভাবে নিষেধ করা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অবিলম্বে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করে জনদুর্ভোগ থেকে এলাকাবাসীকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের দাবি—ঘটনাগুলো চলমান থাকলেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, কার প্রভাব বা ইশারায় এসব কার্যক্রম চলছে—তা নিয়েও আলোচনা চলছে এলাকাজুড়ে।
Reporter Name 


















