Dhaka 6:16 pm, Tuesday, 15 September 2026

তেলে আগুন, পুড়ছে পকেট

  • Reporter Name
  • Update Time : 02:26:34 pm, Monday, 20 April 2026
  • 263 Time View

বোতল সংকট, খোলা তেলে বাড়তি দাম—লিটারে ১৮-২২ টাকা বেশি গুনছেন ক্রেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীসহ সারাদেশে ভোজ্যতেলের বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। কোথাও বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলছে না, আবার কোথাও মিললেও দিতে হচ্ছে বাড়তি দাম। বোতলের সংকটে খোলা তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেখানেও দাম চড়ছে।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, সেগুনবাগিচা, তেজকুনিপাড়া ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে—বেশিরভাগ দোকানেই নেই বোতলজাত তেল। যেগুলো আছে, সেগুলোও পরিচিত ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে চলছে ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলা। চার-পাঁচ দোকান ঘুরেও তেল না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে খোলা তেল কিনতে।
এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বোতল নেই, খোলা তেল কিনতে হচ্ছে—সেখানেও লিটারে ২০ টাকার বেশি বাড়তি দিতে হচ্ছে। দেখার কেউ নেই।”
দাম পরিস্থিতি:
৫ লিটারের বোতল: ৯৬০–৯৭০ টাকা (নির্ধারিত ৯৫৫ টাকা)
খোলা সয়াবিন: ১৯৫–১৯৮ টাকা (নির্ধারিত ১৭৬ টাকা)
খোলা পামঅয়েল: ১৮৪–১৮৫ টাকা (নির্ধারিত ১৬৬ টাকা)
অর্থাৎ প্রতি লিটারে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ১৮–২২ টাকা।
কারসাজির অভিযোগ
ক্রেতাদের অভিযোগ—কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন—সরকার দাম না বাড়ানোয় কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, তেলের সঙ্গে জোর করে অন্য পণ্য (মসলা, আটা, চা-পাতা) কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের।
বৈশ্বিক অজুহাত বনাম বাস্তবতা
তেল পরিশোধনকারীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে।
তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে—আমদানিতে বড় কোনো ঘাটতি নেই, নিয়মিত তেল আসছে দেশে।
তদারকির ঘাটতি
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সংকট আরও বাড়বে।
শেষ কথা
সরকার বলছে, সরবরাহ বাড়ছে এবং শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত আসছে দ্রুত।
তবে বাজারে এখনো স্বস্তি নেই—নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভোগান্তি বাড়ছেই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

নওগাঁর পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা পেলেন রেঞ্জ ডিআইজির সম্মাননা ।

তেলে আগুন, পুড়ছে পকেট

Update Time : 02:26:34 pm, Monday, 20 April 2026

বোতল সংকট, খোলা তেলে বাড়তি দাম—লিটারে ১৮-২২ টাকা বেশি গুনছেন ক্রেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীসহ সারাদেশে ভোজ্যতেলের বাজারে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। কোথাও বোতলজাত সয়াবিন তেল মিলছে না, আবার কোথাও মিললেও দিতে হচ্ছে বাড়তি দাম। বোতলের সংকটে খোলা তেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সেখানেও দাম চড়ছে।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, সেগুনবাগিচা, তেজকুনিপাড়া ও মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে—বেশিরভাগ দোকানেই নেই বোতলজাত তেল। যেগুলো আছে, সেগুলোও পরিচিত ক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে চলছে ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলা। চার-পাঁচ দোকান ঘুরেও তেল না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন বেশি দামে খোলা তেল কিনতে।
এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বোতল নেই, খোলা তেল কিনতে হচ্ছে—সেখানেও লিটারে ২০ টাকার বেশি বাড়তি দিতে হচ্ছে। দেখার কেউ নেই।”
দাম পরিস্থিতি:
৫ লিটারের বোতল: ৯৬০–৯৭০ টাকা (নির্ধারিত ৯৫৫ টাকা)
খোলা সয়াবিন: ১৯৫–১৯৮ টাকা (নির্ধারিত ১৭৬ টাকা)
খোলা পামঅয়েল: ১৮৪–১৮৫ টাকা (নির্ধারিত ১৬৬ টাকা)
অর্থাৎ প্রতি লিটারে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ১৮–২২ টাকা।
কারসাজির অভিযোগ
ক্রেতাদের অভিযোগ—কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন—সরকার দাম না বাড়ানোয় কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, তেলের সঙ্গে জোর করে অন্য পণ্য (মসলা, আটা, চা-পাতা) কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে খুচরা বিক্রেতাদের।
বৈশ্বিক অজুহাত বনাম বাস্তবতা
তেল পরিশোধনকারীদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে।
তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে—আমদানিতে বড় কোনো ঘাটতি নেই, নিয়মিত তেল আসছে দেশে।
তদারকির ঘাটতি
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, বাজারে কার্যকর নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সংকট আরও বাড়বে।
শেষ কথা
সরকার বলছে, সরবরাহ বাড়ছে এবং শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত আসছে দ্রুত।
তবে বাজারে এখনো স্বস্তি নেই—নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভোগান্তি বাড়ছেই।