
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার ফরিদপুরে ১৩ বছর বয়সী শিশু মোঃ সাকিব আল হাসান হত্যা মামলার মূল আসামি মোঃ শাহিন আলম ইমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে শিশুটির কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভ্যানের ক্রেতা মোঃ মুক্তার হোসেনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টার দিকে প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে ডেমরা বাজারের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় রতনপুর গ্রামের হারিজ উদ্দীনের ছেলে সাকিব আল হাসান। দুপুর পর্যন্ত বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। বিকেলে ডেমরা ইউনিয়নের মাজাট গ্রামের মাজাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাজাট কবরস্থানের মাঝামাঝি বড়াল নদীর তীরে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি নিজের ছেলে সাকিবের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা।
এ ঘটনায় সাকিবের বাবা হারিজ উদ্দীন বাদী হয়ে ফরিদপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই মোঃ আরিফুল ইসলাম।
মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেপ্তারে ফরিদপুর থানার একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে। পাশাপাশি সোর্স নিয়োগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ২টার দিকে ফরিদপুর থানাধীন দিঘুলিয়া বাজার থেকে মোঃ শাহিন আলম ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ধানুয়াঘাটা বাজার এলাকার একটি ভাঙাড়ির দোকান থেকে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ভ্যানের ক্রেতা মোঃ মুক্তার হোসেনকেও থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে বাদী উদ্ধার হওয়া ভ্যানটি নিজের বলে শনাক্ত করেন।
উদ্ধার করা হয়েছে: তিন চাকার একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত প্রায় দুই ফুট লম্বা কাঠের বাটাম এবং অটোভ্যান বিক্রির ৯ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ফরিদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মনজুরুল হাসান মাসুদ জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আবু সাঈদ 

















