Dhaka 8:07 pm, Friday, 18 September 2026

কালিয়াকৈরে পারিবারিক কলহের জেরে যুবকের আত্মহত্যা ‎

  • Reporter Name
  • Update Time : 01:32:35 pm, Tuesday, 2 June 2026
  • 315 Time View

‎জুয়েল হোসেন

‎গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মাটিকাটা এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে মো. কামরুল ইসলাম (২১) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সুরিচালা এলাকার হাজী মো. আত্তাব আলীর ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ঘটনাটি ২ ই জুন মঙ্গলবার।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাটিকাটা এলাকার ওই বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি কালিয়াকৈরের একটি গার্মেন্টস কারখানায় আয়রন ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি। এরই একপর্যায়ে নিজ রুমের সামনের একটি খালি কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

‎নিহতের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার বর্ষা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় রান্না সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কামরুল ক্ষুব্ধ হয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। রাত ১২টা পর্যন্ত তিনি ফিরে আসার অপেক্ষায় দরজা খোলা রাখলেও কামরুল বাসায় ফেরেননি। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

‎তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে রুমের সামনের খালি কক্ষে গিয়ে স্বামীকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্ষার দাবি, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন এবং পারিবারিকভাবে ঋণের চাপও ছিল।

‎‎বাসার ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম বলেন, “কামরুল প্রায় সাত মাস ধরে এ বাসায় ভাড়া থাকতেন। সোমবার সন্ধ্যায় তারা দুজন ঝগরা করতেছিলো, আমি ওদেরকে ডেকে বুঝাই ঝগড়া না করে মিলেমিশে থাকো। তারপর রাতে কামরুলের স্ত্রী জানায়, কামরুল রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন। পরে আশপাশে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে সাদিয়ার চিৎকার শুনে এসে দেখি তিনি খালি কক্ষে রশিতে ঝুলে আছেন। এরপর থানায় খবর দেওয়া হয়।”

‎‎বাড়ির মালিকের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর জানান, সকালে বাসার ম্যানেজারের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন এবং পুলিশকে অবহিত করা হয়।

‎খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। নিহত কামরুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তার স্থায়ী বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার শাইলট্টি গ্রামে। তিনি মোহাম্মদ আলী আকন্দ ও মোছা. জাবেদার ছেলে।

‎‎পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎স্থানীয়দের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভূরুঙ্গামারী চেয়ারম্যান (চরমোনাই থেকে বরখাস্ত) এর বিরুদ্ধে প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

কালিয়াকৈরে পারিবারিক কলহের জেরে যুবকের আত্মহত্যা ‎

Update Time : 01:32:35 pm, Tuesday, 2 June 2026

‎জুয়েল হোসেন

‎গাজীপুর প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মাটিকাটা এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে মো. কামরুল ইসলাম (২১) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সুরিচালা এলাকার হাজী মো. আত্তাব আলীর ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।ঘটনাটি ২ ই জুন মঙ্গলবার।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মাটিকাটা এলাকার ওই বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। তিনি কালিয়াকৈরের একটি গার্মেন্টস কারখানায় আয়রন ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি। এরই একপর্যায়ে নিজ রুমের সামনের একটি খালি কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

‎নিহতের স্ত্রী সাদিয়া আক্তার বর্ষা জানান, সোমবার সন্ধ্যায় রান্না সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কামরুল ক্ষুব্ধ হয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। রাত ১২টা পর্যন্ত তিনি ফিরে আসার অপেক্ষায় দরজা খোলা রাখলেও কামরুল বাসায় ফেরেননি। পরে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

‎তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘুম থেকে উঠে রুমের সামনের খালি কক্ষে গিয়ে স্বামীকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখেন। এ সময় তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্ষার দাবি, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন এবং পারিবারিকভাবে ঋণের চাপও ছিল।

‎‎বাসার ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম বলেন, “কামরুল প্রায় সাত মাস ধরে এ বাসায় ভাড়া থাকতেন। সোমবার সন্ধ্যায় তারা দুজন ঝগরা করতেছিলো, আমি ওদেরকে ডেকে বুঝাই ঝগড়া না করে মিলেমিশে থাকো। তারপর রাতে কামরুলের স্ত্রী জানায়, কামরুল রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন। পরে আশপাশে খোঁজ নিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। সকালে সাদিয়ার চিৎকার শুনে এসে দেখি তিনি খালি কক্ষে রশিতে ঝুলে আছেন। এরপর থানায় খবর দেওয়া হয়।”

‎‎বাড়ির মালিকের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর জানান, সকালে বাসার ম্যানেজারের মাধ্যমে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে আসেন এবং পুলিশকে অবহিত করা হয়।

‎খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। নিহত কামরুল ইসলামের জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তার স্থায়ী বাড়ি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার শাইলট্টি গ্রামে। তিনি মোহাম্মদ আলী আকন্দ ও মোছা. জাবেদার ছেলে।

‎‎পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎স্থানীয়দের ধারণা, পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপের কারণেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।