Dhaka 8:39 pm, Thursday, 17 September 2026
শিশু কলি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারসহ ছয় দফা দাবি; মানববন্ধনে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

শিশু কলি হত্যার বিচার দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন, ছয় দফা দাবি পেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি:

পাবনা সদর উপজেলায় বস্তাবন্দি অবস্থায় টুকরো মরদেহ উদ্ধার হওয়া চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহত শিশু কলির সহপাঠীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজার থেকে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলি নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সাত দিন পর গত বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তারা অভিযোগ করেন, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা টানা পাঁচ দিন পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও তাকে উদ্ধারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ সময় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, পাবনায় খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি ও মাদকের বিস্তার মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন পাবনা জেলা শাখার পক্ষ থেকে সমাবেশে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়

ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নিহত শিশুর পরিবারের নিরাপত্তা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। শিশু আইন, ২০১৩ এর কার্যকর প্রয়োগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে। কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বা ব্যক্তির অবহেলা ও গাফিলতি তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন পাবনা জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. ওলিউর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি হেনা গোস্বামী, সহসভাপতি মো. ইকরামুল হক ও মো. বাবুল আক্তারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিশু কলি হত্যার বিচার দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন, ছয় দফা দাবি পেশ

শিশু কলি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারসহ ছয় দফা দাবি; মানববন্ধনে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

শিশু কলি হত্যার বিচার দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন, ছয় দফা দাবি পেশ

Update Time : 04:20:04 pm, Thursday, 17 September 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি:

পাবনা সদর উপজেলায় বস্তাবন্দি অবস্থায় টুকরো মরদেহ উদ্ধার হওয়া চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পাবনায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ পালিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে নিহত শিশু কলির সহপাঠীসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্থানীয় বাজার থেকে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফেরার পর পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলি নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সাত দিন পর গত বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মোস্তফা নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তোলেন বক্তারা। তারা অভিযোগ করেন, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা টানা পাঁচ দিন পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও তাকে উদ্ধারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ সময় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, পাবনায় খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি ও মাদকের বিস্তার মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন পাবনা জেলা শাখার পক্ষ থেকে সমাবেশে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়

ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হবে। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নিহত শিশুর পরিবারের নিরাপত্তা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। শিশু আইন, ২০১৩ এর কার্যকর প্রয়োগ এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে। কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে উদ্ধারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বা ব্যক্তির অবহেলা ও গাফিলতি তদন্ত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন পাবনা জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. ওলিউর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি হেনা গোস্বামী, সহসভাপতি মো. ইকরামুল হক ও মো. বাবুল আক্তারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।