
মো: গোলাম কিবরিয়া
রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা (সিপিও) ও সাবেক যুগ্ম মহাপরিচালক (ইএমই) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি এবং বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে তার নানা অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রাজশাহীতে দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে কুদরত-ই-খুদা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজশাহী সিটির সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে রেলওয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার ও কেনাকাটিতে প্রভাব বিস্তার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও বিরোধী মতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর প্রশাসনিক চাপ, হয়রানি ও জুলুম-নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রেলওয়ের অভ্যন্তরে তার প্রভাব এতটাই বিস্তৃত ছিল যে, অনেকেই ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাননি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পদে দায়িত্ব পালনের সুযোগে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহীর বহরমপুর এলাকায় তার একটি ৫ তলা আলিশান বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা। এছাড়া শিরোইল কলোনিতে আরও একটি ৫ তলা ভবন এবং পদ্মা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজধানী ঢাকাতেও তার বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দুটি ফ্ল্যাট ছাড়াও মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডিতে একটি করে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া রাজধানীর একটি নামকরা রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় তার অংশীদারিত্ব বা বিনিয়োগ রয়েছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে।
আর্থিক অনিয়মের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগও রেলভবনে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে তার সম্পদ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার কল করা এবং খুদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রেলওয়ের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কুদরত-ই-খুদার সম্পদের উৎস এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
Reporter Name 



















