Dhaka 11:08 pm, Thursday, 17 September 2026

“মৎস্য নিধনের ফাঁদ! সাঁথিয়ায় লাখ টাকার চায়না জাল পুড়িয়ে ধ্বংস”

  • Reporter Name
  • Update Time : 11:33:59 am, Friday, 8 May 2026
  • 265 Time View

পাবনা জেলা প্রতিনিধি :

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের লক্ষীপুর ক্যানেলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জব্দকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা বলে জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অবৈধ জাল সংরক্ষণ ও তৈরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ রায়হান। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে লক্ষীপুর ক্যানেলপাড়া এলাকায় গোপনে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল তৈরি ও মজুদ করা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলীর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এসময় বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল, জাল তৈরির সুতা, কাঠামো ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, চায়না দুয়ারী জাল অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি নিষিদ্ধ জাল, যা জলাশয়ের ছোট মাছ, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে নিধন করে। ফলে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া জাল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পরে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এর আওতায় দায়ের করা মামলায় মোহাম্মদ ইয়াকুব আলীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ রায়হান বলেন,
“নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার ও সংরক্ষণ দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব জালের কারণে পোনা মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। জনস্বার্থে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে অবৈধ জাল ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন রক্ষা পাবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভূরুঙ্গামারীতে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

“মৎস্য নিধনের ফাঁদ! সাঁথিয়ায় লাখ টাকার চায়না জাল পুড়িয়ে ধ্বংস”

Update Time : 11:33:59 am, Friday, 8 May 2026

পাবনা জেলা প্রতিনিধি :

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের লক্ষীপুর ক্যানেলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। জব্দকৃত জালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা বলে জানিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে অবৈধ জাল সংরক্ষণ ও তৈরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ রায়হান। অভিযানে স্থানীয় প্রশাসনের সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে লক্ষীপুর ক্যানেলপাড়া এলাকায় গোপনে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল তৈরি ও মজুদ করা হচ্ছিল। এমন তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইয়াকুব আলীর বাড়িতে তল্লাশি চালায়। এসময় বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল, জাল তৈরির সুতা, কাঠামো ও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, চায়না দুয়ারী জাল অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি নিষিদ্ধ জাল, যা জলাশয়ের ছোট মাছ, ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী নির্বিচারে নিধন করে। ফলে দেশীয় মাছের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

অভিযান শেষে উদ্ধার হওয়া জাল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদি ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। পরে মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ এর আওতায় দায়ের করা মামলায় মোহাম্মদ ইয়াকুব আলীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ রায়হান বলেন,
“নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল ব্যবহার ও সংরক্ষণ দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব জালের কারণে পোনা মাছ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। জনস্বার্থে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল প্রশাসনের এ ধরনের অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে অবৈধ জাল ব্যবসা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন রক্ষা পাবে।