Dhaka 11:09 pm, Thursday, 17 September 2026

“রাতের আঁধারে ফসলি জমি লুট! স্কেভেটরের তাণ্ডবে তিন বিঘা মাটি পাচার—নীরব প্রশাসন”

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:46:22 am, Thursday, 7 May 2026
  • 211 Time View

বারবার সংবাদ প্রকাশের পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেই—“কার ছত্রছায়ায় চলছে এই মাটি বাণিজ্য?” প্রশ্ন জনমনে।

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা:

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া চরপাড়া এলাকায় ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—প্রশাসনের চোখের সামনেই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে ফসলি জমি ধ্বংস করে “মাটি ব্যবসা” চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফজলু নামের এক জমির মালিকের প্রায় তিন বিঘা আবাদযোগ্য জমি “পুকুর খননের নাম” ব্যবহার করে কেটে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত মাটি ব্যবসায়ীদের একটি চক্র—ইকবাল, গণি মেম্বারসহ কয়েকজন এবং কথিত সাংবাদিক পরিচয়ধারী এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো যাচাই-বাছাই বা আইনি তদন্তের আওতায় এসেছে কি না—তা স্পষ্ট নয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে জমি কেটে ড্রাম ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত গাড়ির মাধ্যমে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরে এসব মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
“কৃষিজমি ধ্বংস, রাস্তা নষ্ট, জনদুর্ভোগ চরমে”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ মাটি উত্তোলনের ফলে শুধু কৃষিজমিই ধ্বংস হচ্ছে না, ভারী যানবাহনের কারণে গ্রামীণ কাঁচা ও আধাপাকা সড়কও ভেঙে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—“কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে চলছে এই অবৈধ মাটি বাণিজ্য?”

আজ উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাদেরকে অবগত করার পরেও আইনগত পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। প্রশাসনের ভূমিকা যদি এমন হয় সাধারণ জনগণের ভূমিকা কিভাবে দেখা যাবে এ নিয়ে কলুষিত সমাজ ব্যবস্থার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান ভূমি আইন অনুযায়ী ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ফসলি জমি রক্ষা এবং অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।
জনমতের ক্ষোভ: “আইন কি শুধু কাগজে-কলমে?”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বারবার সংবাদ প্রকাশের পরও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হবে। তাদের প্রশ্ন—আইনের শাসন কি কেবল সাধারণ মানুষের জন্য, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য ভিন্ন কোনো বাস্তবতা রয়েছে। ফসলি জমি ধ্বংসের এই অভিযোগ এখন শুধু একটি গ্রামের সমস্যা নয়, বরং এটি স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতার বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—অবিলম্বে তদন্ত, অভিযান এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভূরুঙ্গামারীতে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

“রাতের আঁধারে ফসলি জমি লুট! স্কেভেটরের তাণ্ডবে তিন বিঘা মাটি পাচার—নীরব প্রশাসন”

Update Time : 09:46:22 am, Thursday, 7 May 2026

বারবার সংবাদ প্রকাশের পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেই—“কার ছত্রছায়ায় চলছে এই মাটি বাণিজ্য?” প্রশ্ন জনমনে।

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা:

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের পাটুলিপাড়া চরপাড়া এলাকায় ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও বিক্রির অভিযোগে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—প্রশাসনের চোখের সামনেই দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রাতের আঁধারে ফসলি জমি ধ্বংস করে “মাটি ব্যবসা” চালিয়ে যাচ্ছে, অথচ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযোগ অনুযায়ী, ফজলু নামের এক জমির মালিকের প্রায় তিন বিঘা আবাদযোগ্য জমি “পুকুর খননের নাম” ব্যবহার করে কেটে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত মাটি ব্যবসায়ীদের একটি চক্র—ইকবাল, গণি মেম্বারসহ কয়েকজন এবং কথিত সাংবাদিক পরিচয়ধারী এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো যাচাই-বাছাই বা আইনি তদন্তের আওতায় এসেছে কি না—তা স্পষ্ট নয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত স্কেভেটর (ভেকু) দিয়ে জমি কেটে ড্রাম ট্রাক ও ইঞ্জিনচালিত গাড়ির মাধ্যমে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পরে এসব মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
“কৃষিজমি ধ্বংস, রাস্তা নষ্ট, জনদুর্ভোগ চরমে”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ মাটি উত্তোলনের ফলে শুধু কৃষিজমিই ধ্বংস হচ্ছে না, ভারী যানবাহনের কারণে গ্রামীণ কাঁচা ও আধাপাকা সড়কও ভেঙে পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি বারবার প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অভিযান বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—“কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে চলছে এই অবৈধ মাটি বাণিজ্য?”

আজ উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাদেরকে অবগত করার পরেও আইনগত পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। প্রশাসনের ভূমিকা যদি এমন হয় সাধারণ জনগণের ভূমিকা কিভাবে দেখা যাবে এ নিয়ে কলুষিত সমাজ ব্যবস্থার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান ভূমি আইন অনুযায়ী ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ফসলি জমি রক্ষা এবং অবৈধ মাটি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।
জনমতের ক্ষোভ: “আইন কি শুধু কাগজে-কলমে?”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বারবার সংবাদ প্রকাশের পরও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েই জনমনে আস্থার সংকট তৈরি হবে। তাদের প্রশ্ন—আইনের শাসন কি কেবল সাধারণ মানুষের জন্য, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য ভিন্ন কোনো বাস্তবতা রয়েছে। ফসলি জমি ধ্বংসের এই অভিযোগ এখন শুধু একটি গ্রামের সমস্যা নয়, বরং এটি স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতার বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—অবিলম্বে তদন্ত, অভিযান এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক।