Dhaka 2:22 am, Saturday, 19 September 2026

“সিসিটিভিতে চোর শনাক্ত, উল্টো হামলা—এক মাস পর পাল্টা মামলা ঘিরে রহস্য!”

  • Reporter Name
  • Update Time : 08:45:31 am, Wednesday, 6 May 2026
  • 243 Time View

চোর ধরার ‘অপরাধে’ রক্তাক্ত গ্রাম—ভুক্তভোগীর মামলায় গ্রেফতার নেই, পাল্টা মামলায় প্রশ্নের ঝড়

স্টাফ রিপোর্টার, সাঁথিয়া (পাবনা):

পাবনার বেড়া উপজেলার বৃশালিখা গ্রামে সিসিটিভি ফুটেজে চোর শনাক্ত করাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগী পরিবার। এরই মধ্যে ঘটনাটিকে ঘিরে পাল্টা মামলা দায়ের হওয়ায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল সিসিটিভি ফুটেজে চোর শনাক্ত হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। অভিযোগ রয়েছে, সিসিটিভির মালিক আব্দুর রাজ্জাকের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় প্রতিবেশী আশিক, সাহাদত, আতিকুলসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

ঘটনার দুই দিন পর, ৭ এপ্রিল জেছনা খাতুন বাদী হয়ে বেড়া থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

তবে ঘটনার এক মাস পর নতুন মোড় নেয় পরিস্থিতি। আনোয়ার হোসেন আদালতে একটি পাল্টা মামলার আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে সেই মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বেড়া থানার অফিসার ইনচার্জ নিতাই চন্দ্র সরকার।

ভুক্তভোগী জোছনা খাতুনের পরিবারের অভিযোগ, তাদের দায়ের করা মামলার সঠিক তদন্ত হয়নি। তারা দাবি করেন, “আমাদের উপরই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে, অথচ এক মাসেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। বরং আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে আসামিরা আটক হয়েছে।”

পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস পর দায়ের হওয়া পাল্টা মামলার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মমতাজ উদ্দিনকে সরিয়ে একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, জোছনার মামলার নারী সাক্ষীদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ এটিকে “চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির কৌশল” বলছেন, আবার কেউ বলছেন “আইনি লড়াইয়ের অংশ”।

ঘটনাটি এখন শুধু একটি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি রূপ নিয়েছে আইনি পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে, যেখানে সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় পুরো এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

পার্বতীপুরে দৈনিক জনতার ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

“সিসিটিভিতে চোর শনাক্ত, উল্টো হামলা—এক মাস পর পাল্টা মামলা ঘিরে রহস্য!”

Update Time : 08:45:31 am, Wednesday, 6 May 2026

চোর ধরার ‘অপরাধে’ রক্তাক্ত গ্রাম—ভুক্তভোগীর মামলায় গ্রেফতার নেই, পাল্টা মামলায় প্রশ্নের ঝড়

স্টাফ রিপোর্টার, সাঁথিয়া (পাবনা):

পাবনার বেড়া উপজেলার বৃশালিখা গ্রামে সিসিটিভি ফুটেজে চোর শনাক্ত করাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে ভুক্তভোগী পরিবার। এরই মধ্যে ঘটনাটিকে ঘিরে পাল্টা মামলা দায়ের হওয়ায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল সিসিটিভি ফুটেজে চোর শনাক্ত হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। অভিযোগ রয়েছে, সিসিটিভির মালিক আব্দুর রাজ্জাকের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় প্রতিবেশী আশিক, সাহাদত, আতিকুলসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

ঘটনার দুই দিন পর, ৭ এপ্রিল জেছনা খাতুন বাদী হয়ে বেড়া থানায় ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

তবে ঘটনার এক মাস পর নতুন মোড় নেয় পরিস্থিতি। আনোয়ার হোসেন আদালতে একটি পাল্টা মামলার আবেদন করেন। পরে আদালতের নির্দেশে সেই মামলাটি এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বেড়া থানার অফিসার ইনচার্জ নিতাই চন্দ্র সরকার।

ভুক্তভোগী জোছনা খাতুনের পরিবারের অভিযোগ, তাদের দায়ের করা মামলার সঠিক তদন্ত হয়নি। তারা দাবি করেন, “আমাদের উপরই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে, অথচ এক মাসেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। বরং আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে আসামিরা আটক হয়েছে।”

পরিবারের সদস্যরা আরও অভিযোগ করেন, প্রায় এক মাস পর দায়ের হওয়া পাল্টা মামলার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মমতাজ উদ্দিনকে সরিয়ে একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তার মাধ্যমে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, জোছনার মামলার নারী সাক্ষীদের বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। কেউ এটিকে “চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির কৌশল” বলছেন, আবার কেউ বলছেন “আইনি লড়াইয়ের অংশ”।

ঘটনাটি এখন শুধু একটি হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—এটি রূপ নিয়েছে আইনি পাল্টাপাল্টি লড়াইয়ে, যেখানে সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় পুরো এলাকাবাসী।