Dhaka 12:00 pm, Saturday, 12 September 2026

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় রাসেল; পরিবারের জন্য চাইলেন ক্ষমা

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:16:10 pm, Friday, 14 August 2026
  • 68 Time View

 

মো : হৃদয় সরকার , বিশেষ  প্রতিনিধি:

ভাঙ্গুড়া (পাবনা): চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের বড় ছেলে ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে যান রাসেল। এ সময় বাড়িতে আগে থেকেই স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও এলাকাবাসীর ভিড় ছিল।

গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির উঠানে রাখা ফ্রিজিং গাড়িতে মায়ের মরদেহের মুখ শেষবারের মতো দেখেন রাসেল। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ। পরে পোশাক পরিবর্তন ও অজু শেষে পুলিশের গাড়িতে করে জানাজার মাঠে যান তিনি।

ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে পৌঁছে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান রাসেল। পরে পুলিশি পাহারায় জানাজার মাঠে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

রাসেল বলেন, “আজ যারা আমার মায়ের জানাজায় হাজির হয়েছেন, তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যিনি আমার মাকে চেনেন না। আমার মা প্রকৃতপক্ষে একজন গৃহিণী ছিলেন। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, তিনি রান্নাঘরের চুলায় রান্না করেছেন। আমাদের বাড়িতে যারা এসেছেন, তাদের অনেকেই আমার মায়ের হাতের ডাল ভাত খেয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মা আজ পৃথিবীতে নেই। আপনারা সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন এবং কবরের সওয়াল-জবাব সহজ করে দেন। আমার ছেলে আছে, আমাদের পরিবারের জন্যও সবাই দোয়া করবেন—আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন।”

এ সময় এলাকাবাসীর উদ্দেশে ক্ষমা চেয়ে রাসেল বলেন, “আমাদের পরিবার যদি আপনাদের কাছে কোনো ভুল করে থাকে, তাহলে করজোড়ে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাদের মাফ করে দেবেন।”

পরে মায়ের জানাজার নামাজে অংশ নেন রাসেল। জানাজায় ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার নেতাকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

জানাজা শেষে পুলিশি পাহারায় পার-ভাঙ্গুড়া কবরস্থানে যান রাসেল। সেখানে মায়ের কবরে মাটি দিয়ে দোয়ায় অংশ নেন। পরে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

আদালতে জামিন, নতুন মামলায় ফের গ্রেপ্তার

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা ও পাবনা-৩ আসনের সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়েছিল।

এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে রাসেল ও তার সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মায়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন উল্লেখ করে সম্প্রতি আদালতে জামিনের আবেদন করেন রাসেলের আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের জামিনের আদেশ যথাসময়ে জেলা কারাগারে পৌঁছালেও তাকে কারামুক্ত করা হয়নি।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান তার মা। একই দিন রাসেলকে আদালতে হাজির করে চাটমোহর থানায় দায়ের হওয়া অন্য একটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ। ফলে একটি মামলায় আদালতের জামিন কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি কারাগারেই থেকে যান।

এ অবস্থায় মায়ের জানাজায় শেষবারের মতো অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আদালতে থাকা অবস্থায় মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেল।

পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিক্ষার্থী সংকটে কুড়িগ্রামের মুড়িয়াহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়: শিক্ষক থাকলেও নেই শিক্ষার্থী স্থানীয়দের অভিযোগ  

প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় রাসেল; পরিবারের জন্য চাইলেন ক্ষমা

Update Time : 09:16:10 pm, Friday, 14 August 2026

 

মো : হৃদয় সরকার , বিশেষ  প্রতিনিধি:

ভাঙ্গুড়া (পাবনা): চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিলেন পাবনা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের বড় ছেলে ও ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র গোলাম হাসনাইন রাসেল।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তায় পুলিশের গাড়িতে করে ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের সরদারপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে যান রাসেল। এ সময় বাড়িতে আগে থেকেই স্বজন, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও এলাকাবাসীর ভিড় ছিল।

গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির উঠানে রাখা ফ্রিজিং গাড়িতে মায়ের মরদেহের মুখ শেষবারের মতো দেখেন রাসেল। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক পরিবেশ। পরে পোশাক পরিবর্তন ও অজু শেষে পুলিশের গাড়িতে করে জানাজার মাঠে যান তিনি।

ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ মাঠে পৌঁছে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান রাসেল। পরে পুলিশি পাহারায় জানাজার মাঠে গিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।

রাসেল বলেন, “আজ যারা আমার মায়ের জানাজায় হাজির হয়েছেন, তাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যিনি আমার মাকে চেনেন না। আমার মা প্রকৃতপক্ষে একজন গৃহিণী ছিলেন। ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি, তিনি রান্নাঘরের চুলায় রান্না করেছেন। আমাদের বাড়িতে যারা এসেছেন, তাদের অনেকেই আমার মায়ের হাতের ডাল ভাত খেয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মা আজ পৃথিবীতে নেই। আপনারা সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন এবং কবরের সওয়াল-জবাব সহজ করে দেন। আমার ছেলে আছে, আমাদের পরিবারের জন্যও সবাই দোয়া করবেন—আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন।”

এ সময় এলাকাবাসীর উদ্দেশে ক্ষমা চেয়ে রাসেল বলেন, “আমাদের পরিবার যদি আপনাদের কাছে কোনো ভুল করে থাকে, তাহলে করজোড়ে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাদের মাফ করে দেবেন।”

পরে মায়ের জানাজার নামাজে অংশ নেন রাসেল। জানাজায় ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার নেতাকর্মী, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

জানাজা শেষে পুলিশি পাহারায় পার-ভাঙ্গুড়া কবরস্থানে যান রাসেল। সেখানে মায়ের কবরে মাটি দিয়ে দোয়ায় অংশ নেন। পরে পুলিশের গাড়িতে করে তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

আদালতে জামিন, নতুন মামলায় ফের গ্রেপ্তার

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেলের মা ও পাবনা-৩ আসনের সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান রেখা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়েছিল।

এর আগে গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে রাসেল ও তার সহযোগী বশিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ভাঙ্গুড়া থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

মায়ের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন উল্লেখ করে সম্প্রতি আদালতে জামিনের আবেদন করেন রাসেলের আইনজীবী। দীর্ঘ শুনানি শেষে বুধবার (১২ আগস্ট) পাবনা জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আফতাবুজ্জামান তার জামিন মঞ্জুর করেন। তবে আদালতের জামিনের আদেশ যথাসময়ে জেলা কারাগারে পৌঁছালেও তাকে কারামুক্ত করা হয়নি।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান তার মা। একই দিন রাসেলকে আদালতে হাজির করে চাটমোহর থানায় দায়ের হওয়া অন্য একটি মামলায় তাকে শোন অ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ। ফলে একটি মামলায় আদালতের জামিন কার্যকর হওয়ার আগেই নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তিনি কারাগারেই থেকে যান।

এ অবস্থায় মায়ের জানাজায় শেষবারের মতো অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আদালতে থাকা অবস্থায় মায়ের মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন রাসেল।

পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা ও দাফন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি।