ঢাকা,টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধীরে ধীরে বাড়ছে মানুষের ঢল ও যানবাহনের চাপ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫০:৩৮ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • 34 Time View

মোঃ শাহ্ আলম সরকার
স্টাফ রিপোর্টার।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাড়ছে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ । এর আগেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় নারীর টানে ঘরে ফেরা মানুষ ও গণপরিবহনের চাপ বাড়তে শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) বিকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিকালে কালিয়াকৈর উপজেলার ছোট ছোট কিছু কলকারখানা ছুটি ঘোষণা হওয়াই এবং অনেক চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী যানজট এড়াতে আগেভাগেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ফলে চন্দ্রা এলাকা জুড়ে যাত্রী ও গণপরিবহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। টিকিট কাউন্টারগুলোর সামনে পরিবহনের কিছুটা জটলা দেখা গেলেও মহাসড়কের কোথাও কোনো দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক শিল্প-কলকারখানা রয়েছে। এসব কারখানা ঈদে একযোগে ছুটি হলে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। মূলত উত্তরবঙ্গের ২৫টি জেলার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র প্রবেশমুখ এই চন্দ্রা। প্রতি ঈদে চন্দ্রা দিয়ে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরেন। ঢাকা, গাজীপুর, টঙ্গী ও কোনাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী সব যানবাহনকে চন্দ্রা হয়েই যেতে হয়। ফলে এই মোড়ে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ স্বভাবতই দ্বিগুণ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চন্দ্রা এলাকায় অপরিকল্পিত সড়ক ডিভাইডার নির্মাণ, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, সড়কের পাশে বাস কাউন্টার ও অবৈধ দোকানপাট বসানোর কারণে প্রতি বছর তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এবারও অনেক যাত্রী ডিভাইডারকেই যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছেন এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যান চলাচল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও প্রশাসনের সামনেই সেগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, যা প্রায়শই দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে।

চন্দ্রা এলাকায় যানজট নিরসনে এবার প্রায় ১ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কাজ করবেন। হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের পাশাপাশি এবার নতুন করে ৪ প্লাটুন এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) সদস্য মহাসড়কে মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম জানান, আগামী সোমবার থেকে পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হলে যাত্রী ও গণপরিবহনের চাপ আরও ব্যাপক হারে বাড়বে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি এবার ৪ প্লাটুন এপিবিএন সদস্য বিশেষ নজরদারিতে থাকবেন। মানুষকে স্বস্তিতে বাড়ি ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

ঢাকা,টাঙ্গাইল মহাসড়কে ধীরে ধীরে বাড়ছে মানুষের ঢল ও যানবাহনের চাপ।

Update Time : ০৯:৫০:৩৮ পূর্বাহ্ণ, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

মোঃ শাহ্ আলম সরকার
স্টাফ রিপোর্টার।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে বাড়ছে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ । এর আগেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় নারীর টানে ঘরে ফেরা মানুষ ও গণপরিবহনের চাপ বাড়তে শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) বিকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় এমন চিত্র দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিকালে কালিয়াকৈর উপজেলার ছোট ছোট কিছু কলকারখানা ছুটি ঘোষণা হওয়াই এবং অনেক চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী যানজট এড়াতে আগেভাগেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। ফলে চন্দ্রা এলাকা জুড়ে যাত্রী ও গণপরিবহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। টিকিট কাউন্টারগুলোর সামনে পরিবহনের কিছুটা জটলা দেখা গেলেও মহাসড়কের কোথাও কোনো দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক শিল্প-কলকারখানা রয়েছে। এসব কারখানা ঈদে একযোগে ছুটি হলে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। মূলত উত্তরবঙ্গের ২৫টি জেলার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র প্রবেশমুখ এই চন্দ্রা। প্রতি ঈদে চন্দ্রা দিয়ে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফেরেন। ঢাকা, গাজীপুর, টঙ্গী ও কোনাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসা উত্তরবঙ্গগামী সব যানবাহনকে চন্দ্রা হয়েই যেতে হয়। ফলে এই মোড়ে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ স্বভাবতই দ্বিগুণ হয়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চন্দ্রা এলাকায় অপরিকল্পিত সড়ক ডিভাইডার নির্মাণ, যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো, সড়কের পাশে বাস কাউন্টার ও অবৈধ দোকানপাট বসানোর কারণে প্রতি বছর তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এবারও অনেক যাত্রী ডিভাইডারকেই যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করছেন এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যান চলাচল সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকলেও প্রশাসনের সামনেই সেগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, যা প্রায়শই দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে।

চন্দ্রা এলাকায় যানজট নিরসনে এবার প্রায় ১ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কাজ করবেন। হাইওয়ে ও জেলা পুলিশের পাশাপাশি এবার নতুন করে ৪ প্লাটুন এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) সদস্য মহাসড়কে মোতায়েন করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম জানান, আগামী সোমবার থেকে পোশাক কারখানাগুলো ছুটি হলে যাত্রী ও গণপরিবহনের চাপ আরও ব্যাপক হারে বাড়বে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি এবার ৪ প্লাটুন এপিবিএন সদস্য বিশেষ নজরদারিতে থাকবেন। মানুষকে স্বস্তিতে বাড়ি ফেরাতে হাইওয়ে পুলিশ সব ধরনের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা রয়েছে।