Dhaka 12:27 pm, Sunday, 13 September 2026

প্রেম থেকে প্রতারণা? বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর অভিযোগে চাটমোহরে চাঞ্চল্য

  • Reporter Name
  • Update Time : 05:55:51 pm, Tuesday, 21 July 2026
  • 117 Time View

পাবনা প্রতিনিধিঃ

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর এলাকার জুয়েল (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখেন অভিযুক্ত জুয়েল। ওই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এদিকে আমার মেয়ের বিয়ের কথা হলে জুয়েল বিয়ের কথা বলে আমার মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে যায় এবং বিয়ে ছাড়াই আমার মেয়ের সাথে গল্পের নাটকের মত করে মাসের পর মাস ধর্ষণের করেছে। এখন আমরা মনে করতেছি এই ছেলে একটা প্রতারক এবং এই প্রতারণার মধ্যে দিয়ে আমার মেয়েকে বারবার ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে। জুয়েলের ভাই সেনাবাহিনীর চাকরি করে শুনেছি। আপনি কি মনে করেন জুয়েলের ভাই সেনাবাহিনীর চাকরির সুবাধে এই ধরনের অপকর্ম করার সুযোগ পাচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তার ভাই সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না তবে এই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না।

তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাসের পর মাস তার সঙ্গে রাত কাটিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে করেনি। পরে জানতে পারি, আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রথমে আমার মেয়ের খালা জানতে পারেন। পরে তিনি কৌশলে আমার মেয়েকে জুয়েলের কাছ থেকে নিয়ে আসেন। এরপর মেয়ের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানতে পারি। বর্তমানে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের কারণে তরুণী চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত জুয়েলের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ, কিছুটা স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে মেয়েদের সাথে ছবি ওঠার।

এদিকে পরিবারের দাবি, ঘটনাটি প্রথমে সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি “জয় হোসেন” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরবর্তীতে ওই আইডিতে ছবি গুলো আর খুঁজে পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, এসব ছবি অনুমতি ছাড়া প্রচার করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা ছড়িয়ে দেওয়া গুরুতর সাইবার অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে এলাকায় গেলে তাকে পাওয়া যায় নাই, স্থানীয় প্রতিবেশিরা বলেন তিনি ঢাকায় চাকরি করেন।পরবর্তীতে তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সেটাও সম্ভব হয় নাই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিক্ষার্থী সংকটে কুড়িগ্রামের মুড়িয়াহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়: শিক্ষক থাকলেও নেই শিক্ষার্থী স্থানীয়দের অভিযোগ  

প্রেম থেকে প্রতারণা? বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণ ও আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর অভিযোগে চাটমোহরে চাঞ্চল্য

Update Time : 05:55:51 pm, Tuesday, 21 July 2026

পাবনা প্রতিনিধিঃ

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর এলাকার জুয়েল (২২) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত ও আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভুক্তভোগী তরুণীর বাবা অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখেন অভিযুক্ত জুয়েল। ওই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। এদিকে আমার মেয়ের বিয়ের কথা হলে জুয়েল বিয়ের কথা বলে আমার মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে যায় এবং বিয়ে ছাড়াই আমার মেয়ের সাথে গল্পের নাটকের মত করে মাসের পর মাস ধর্ষণের করেছে। এখন আমরা মনে করতেছি এই ছেলে একটা প্রতারক এবং এই প্রতারণার মধ্যে দিয়ে আমার মেয়েকে বারবার ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে। জুয়েলের ভাই সেনাবাহিনীর চাকরি করে শুনেছি। আপনি কি মনে করেন জুয়েলের ভাই সেনাবাহিনীর চাকরির সুবাধে এই ধরনের অপকর্ম করার সুযোগ পাচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, তার ভাই সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না তবে এই বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না।

তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মাসের পর মাস তার সঙ্গে রাত কাটিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে করেনি। পরে জানতে পারি, আমার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রথমে আমার মেয়ের খালা জানতে পারেন। পরে তিনি কৌশলে আমার মেয়েকে জুয়েলের কাছ থেকে নিয়ে আসেন। এরপর মেয়ের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানতে পারি। বর্তমানে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের কারণে তরুণী চরম মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়ভাবে আরও অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত জুয়েলের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ, কিছুটা স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে মেয়েদের সাথে ছবি ওঠার।

এদিকে পরিবারের দাবি, ঘটনাটি প্রথমে সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত এক ব্যক্তি “জয় হোসেন” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। পরবর্তীতে ওই আইডিতে ছবি গুলো আর খুঁজে পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ, এসব ছবি অনুমতি ছাড়া প্রচার করা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ বা ছড়িয়ে দেওয়া গুরুতর সাইবার অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে এলাকায় গেলে তাকে পাওয়া যায় নাই, স্থানীয় প্রতিবেশিরা বলেন তিনি ঢাকায় চাকরি করেন।পরবর্তীতে তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সেটাও সম্ভব হয় নাই।