কুকুর-শিয়ালের কামড়ে বাড়ছে জলাতঙ্কে গবাদিপশুর মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৩:৪৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • 38 Time View

বিনামূল্যে ‘র‍্যাবিস ভ্যাকসিন’ বিতরণ শুরু করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইদানিং বিভিন্ন এলাকায় কুকুর ও শিয়ালের কামড়ে গবাদিপশু জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে গরু, ছাগল ও অন্যান্য গবাদিপশু আক্রান্ত হয়ে কৃষক ও খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও গবাদিপশুকে সুরক্ষিত রাখতে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে বিশেষ “র‍্যাবিস ভ্যাকসিন” সরবরাহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব ভ্যাকসিন বিনামূল্যে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় কুকুর ও শিয়ালের আক্রমণে গবাদিপশুর মধ্যে জলাতঙ্ক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত পশুর আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠা, অতিরিক্ত উত্তেজিত হওয়া, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়া এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এতে খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে পর্যাপ্ত পরিমাণ র‍্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, যেসব গবাদিপশু কুকুর বা শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে কিংবা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেসব পশুকে দ্রুত ভ্যাকসিন প্রদান করা প্রয়োজন। এজন্য খামারি ও সাধারণ পশুপালকদের দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “র‍্যাবিস একটি মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ। আক্রান্ত পশুকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় আমরা বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদান করছি, যাতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”

প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, কুকুর বা শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে খামার ও বসতবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

উপজেলার সচেতন মহল উপজেলা পরিষদ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের ফলে গবাদিপশুর মৃত্যুহার কমবে এবং খামারিরা উপকৃত হবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকল পশুপালককে দ্রুত যোগাযোগ করে বিনামূল্যে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কুকুর-শিয়ালের কামড়ে বাড়ছে জলাতঙ্কে গবাদিপশুর মৃত্যু

Update Time : ১১:৫৩:৪৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

বিনামূল্যে ‘র‍্যাবিস ভ্যাকসিন’ বিতরণ শুরু করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ইদানিং বিভিন্ন এলাকায় কুকুর ও শিয়ালের কামড়ে গবাদিপশু জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে গরু, ছাগল ও অন্যান্য গবাদিপশু আক্রান্ত হয়ে কৃষক ও খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও গবাদিপশুকে সুরক্ষিত রাখতে উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে বিশেষ “র‍্যাবিস ভ্যাকসিন” সরবরাহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব ভ্যাকসিন বিনামূল্যে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় কুকুর ও শিয়ালের আক্রমণে গবাদিপশুর মধ্যে জলাতঙ্ক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত পশুর আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠা, অতিরিক্ত উত্তেজিত হওয়া, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দেওয়া এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। এতে খামারিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে পর্যাপ্ত পরিমাণ র‍্যাবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, যেসব গবাদিপশু কুকুর বা শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছে কিংবা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, সেসব পশুকে দ্রুত ভ্যাকসিন প্রদান করা প্রয়োজন। এজন্য খামারি ও সাধারণ পশুপালকদের দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “র‍্যাবিস একটি মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগ। আক্রান্ত পশুকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় আমরা বিনামূল্যে ভ্যাকসিন প্রদান করছি, যাতে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।”

প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, কুকুর বা শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত পশুকে আলাদা রাখতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঝুঁকি এড়াতে খামার ও বসতবাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

উপজেলার সচেতন মহল উপজেলা পরিষদ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলছেন, দ্রুত ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রমের ফলে গবাদিপশুর মৃত্যুহার কমবে এবং খামারিরা উপকৃত হবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সকল পশুপালককে দ্রুত যোগাযোগ করে বিনামূল্যে র‍্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।