১০ মিনিটে সাফ ১২ লাখ! দুপুরে জুয়েলার্স লুট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০২:০০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
  • 122 Time View

মাত্র ১০ মিনিটে তালা-সিন্দুক ভেঙে লুট; ৬ সদস্যের চক্র শনাক্তে পুলিশের অভিযান
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা:
পাবনার চাটমোহরে ব্যস্ততম বাজার এলাকায় দিনের বেলায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। পৌর সদরের মির্জা মার্কেটে অবস্থিত তামিম জুয়েলার্সে তালা ও সিন্দুক ভেঙে প্রায় ১২ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রুপার অলংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৪ মে) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
দোকান মালিক তৌহিদুল ইসলাম জানান, দুপুরে খাবারের জন্য অল্প সময়ের জন্য দোকান বন্ধ করে বাইরে যান তিনি। মাত্র ১০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন দোকানের তালা ভাঙা এবং সিন্দুক খোলা। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় সাড়ে চার ভরি স্বর্ণ এবং বিপুল পরিমাণ রুপার অলংকার উধাও হয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকারও বেশি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। এমন ঘটনা কল্পনাও করিনি।”
ঘটনার খবর পেয়ে চাটমোহর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম মোস্তফা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ৬ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মির্জা মার্কেট এলাকায় প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য অপরিচিত মানুষের যাতায়াত থাকে। বিশেষ করে পাশের একটি হোটেলকে কেন্দ্র করে দিন-রাত মানুষের ভিড় থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। তাদের ধারণা, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “দিনের আলোতে এমন চুরি হলে ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।”
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৩ সালে চাটমোহর পৌর সদরের দোলবেদীতলা এলাকায় একটি জুয়েলার্স দোকানে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যা এখনও এলাকাবাসীর মনে আতঙ্কের স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
দিনের বেলায় ব্যস্ত বাজারে এমন দুঃসাহসিক চুরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

১০ মিনিটে সাফ ১২ লাখ! দুপুরে জুয়েলার্স লুট

Update Time : ০১:০২:০০ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

মাত্র ১০ মিনিটে তালা-সিন্দুক ভেঙে লুট; ৬ সদস্যের চক্র শনাক্তে পুলিশের অভিযান
নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা:
পাবনার চাটমোহরে ব্যস্ততম বাজার এলাকায় দিনের বেলায় দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। পৌর সদরের মির্জা মার্কেটে অবস্থিত তামিম জুয়েলার্সে তালা ও সিন্দুক ভেঙে প্রায় ১২ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রুপার অলংকার লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৪ মে) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
দোকান মালিক তৌহিদুল ইসলাম জানান, দুপুরে খাবারের জন্য অল্প সময়ের জন্য দোকান বন্ধ করে বাইরে যান তিনি। মাত্র ১০ মিনিট পর ফিরে এসে দেখেন দোকানের তালা ভাঙা এবং সিন্দুক খোলা। এ সময় দোকানে থাকা প্রায় সাড়ে চার ভরি স্বর্ণ এবং বিপুল পরিমাণ রুপার অলংকার উধাও হয়ে যায়, যার আনুমানিক মূল্য ১২ লাখ টাকারও বেশি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। এমন ঘটনা কল্পনাও করিনি।”
ঘটনার খবর পেয়ে চাটমোহর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. গোলাম মোস্তফা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ৬ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, মির্জা মার্কেট এলাকায় প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য অপরিচিত মানুষের যাতায়াত থাকে। বিশেষ করে পাশের একটি হোটেলকে কেন্দ্র করে দিন-রাত মানুষের ভিড় থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। তাদের ধারণা, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “দিনের আলোতে এমন চুরি হলে ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।”
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৩ সালে চাটমোহর পৌর সদরের দোলবেদীতলা এলাকায় একটি জুয়েলার্স দোকানে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যা এখনও এলাকাবাসীর মনে আতঙ্কের স্মৃতি হয়ে রয়েছে।
দিনের বেলায় ব্যস্ত বাজারে এমন দুঃসাহসিক চুরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।