“চাকরি বাণিজ্যে ২১ লাখ গিললেন অধ্যক্ষ!”

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩১:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৪ মে ২০২৬
  • 123 Time View

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীরা।
সোমবার (০৪/০৫/২০২৬) দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণ ও আশপাশ এলাকায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অধ্যক্ষ তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন।
তাদের দাবি—
“চাকরি দিতে হবে, না হলে টাকা ফেরত দিতে হবে।”
অভিযোগ আরও রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে বিনা বেতনে কাজ করানো হয়েছে। এর মধ্যে মৃত আব্দুল আজিজ নামে একজন প্রায় ১৮ বছর কাজ করেও কোনো পারিশ্রমিক পাননি। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, বকেয়া বেতনের কষ্ট ও হতাশা থেকেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, সম্প্রতি নৈশ্যপ্রহরী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চারজন প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে—
লিমনের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা
হেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা
এছাড়া অতীতেও—
২০১০ সালে অফিস সহকারী পদে ৬ লাখ টাকা
২০০২ সালে কম্পিউটার অপারেটর পদে ৬ লাখ টাকা
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর বলেন,
“এটি একটি ষড়যন্ত্র। আমি কোনো ঘুষ নিইনি। স্বচ্ছ নিয়োগের মাধ্যমেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান জানান,
“অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

“চাকরি বাণিজ্যে ২১ লাখ গিললেন অধ্যক্ষ!”

Update Time : ০৭:৩১:৩৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় এলাকা। খানমরিচ টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগরের বিরুদ্ধে ২১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী চাকরিপ্রার্থীরা।
সোমবার (০৪/০৫/২০২৬) দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণ ও আশপাশ এলাকায় এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অধ্যক্ষ তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকজনকে নিয়োগ দিয়েছেন।
তাদের দাবি—
“চাকরি দিতে হবে, না হলে টাকা ফেরত দিতে হবে।”
অভিযোগ আরও রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একাধিক ব্যক্তিকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে বিনা বেতনে কাজ করানো হয়েছে। এর মধ্যে মৃত আব্দুল আজিজ নামে একজন প্রায় ১৮ বছর কাজ করেও কোনো পারিশ্রমিক পাননি। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, বকেয়া বেতনের কষ্ট ও হতাশা থেকেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, সম্প্রতি নৈশ্যপ্রহরী পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চারজন প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে—
লিমনের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা
হেলাল উদ্দিনের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা
এছাড়া অতীতেও—
২০১০ সালে অফিস সহকারী পদে ৬ লাখ টাকা
২০০২ সালে কম্পিউটার অপারেটর পদে ৬ লাখ টাকা
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মোফাজ্জল হোসেন সাগর বলেন,
“এটি একটি ষড়যন্ত্র। আমি কোনো ঘুষ নিইনি। স্বচ্ছ নিয়োগের মাধ্যমেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান জানান,
“অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”