Dhaka 12:28 pm, Sunday, 13 September 2026

“হাসপাতালে লুটপাট, জেলে সাবেক বস”

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:34:05 pm, Wednesday, 29 April 2026
  • 244 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা:
আবারও আলোচনায় পাবনা মানসিক হাসপাতাল—তবে এবার সেবার জন্য নয়, দুর্নীতির কালো ছায়ায়! সরকারি অর্থ লুটপাটের গুরুতর অভিযোগে দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলায় সাবেক পরিচালক ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে পাবনা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় হাসপাতালের কেনাকাটা ও প্রশাসনিক কাজে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৭৬৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ‘পথ্য সামগ্রী’ কেনার নামে বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এই ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
মামলায় ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস ছাড়াও আরও কয়েকজন অভিযুক্ত রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস রায় জামিনের বিরোধিতা করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।
সরকারি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল খাতে এ ধরনের দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, জনসেবার উপরও মারাত্মক আঘাত। প্রশ্ন উঠছে—কতটা নিরাপদ আমাদের স্বাস্থ্যখাত?
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানই পারে রাষ্ট্রকে স্বচ্ছ পথে এগিয়ে নিতে। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হোক জনআস্থার একমাত্র ভরসা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিক্ষার্থী সংকটে কুড়িগ্রামের মুড়িয়াহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়: শিক্ষক থাকলেও নেই শিক্ষার্থী স্থানীয়দের অভিযোগ  

“হাসপাতালে লুটপাট, জেলে সাবেক বস”

Update Time : 10:34:05 pm, Wednesday, 29 April 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা:
আবারও আলোচনায় পাবনা মানসিক হাসপাতাল—তবে এবার সেবার জন্য নয়, দুর্নীতির কালো ছায়ায়! সরকারি অর্থ লুটপাটের গুরুতর অভিযোগে দুদকের দায়ের করা ছয়টি মামলায় সাবেক পরিচালক ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাসকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে পাবনা সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, দায়িত্বে থাকা অবস্থায় হাসপাতালের কেনাকাটা ও প্রশাসনিক কাজে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে প্রায় ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৭৬৮ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ‘পথ্য সামগ্রী’ কেনার নামে বাজারমূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম দেখিয়ে এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
এই ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে পৃথক ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
মামলায় ডা. তন্ময় প্রকাশ বিশ্বাস ছাড়াও আরও কয়েকজন অভিযুক্ত রয়েছেন, যাদের বিরুদ্ধে যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মলয় কুমার দাস রায় জামিনের বিরোধিতা করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেন।
সরকারি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল খাতে এ ধরনের দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, জনসেবার উপরও মারাত্মক আঘাত। প্রশ্ন উঠছে—কতটা নিরাপদ আমাদের স্বাস্থ্যখাত?
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানই পারে রাষ্ট্রকে স্বচ্ছ পথে এগিয়ে নিতে। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই হোক জনআস্থার একমাত্র ভরসা।