“খাসচরে খাল খনন! তিন ফসলি জমি রক্ষায় পাবনায় কৃষকদের ক্ষোভে ফুঁসছে জনপদ”

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২১:০০ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • 564 Time View

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পীরপুর এলাকায় খাসচর বলরামপুর মৌজায় বিস্তীর্ণ তিন ফসলি আবাদি জমির ওপর দিয়ে খাল খননের উদ্যোগকে ঘিরে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক এই খনন কার্যক্রম চালাতে চাচ্ছে, যা কৃষিজমি ও জীবিকার ওপর বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এস.এস খতিয়ান নং-৫৩৮-এর অন্তর্ভুক্ত দাগ নং-১৮৮০ এবং আর.এস দাগ নং ৩৩০৪, ৩৩০৩, ৩২৩১, ৩২৩০, ৩২২৯, ৩২২৮, ৩২২৭, ৩২২৬, ৩২২৫, ৩২২৪, ৩২২৩, ৩২২২, ৩৩১৯, ৩৩১৮, ৩৩১৭, ৩৩১৬, ৩৩১৫, ৩৩১৪ ও ৩৩১৩ (সবগুলো আংশিক) সহ আশপাশের জমিগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমি। এসব জমিতে বছরের পর বছর ধরে ইরি ধানসহ নানা ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে এসব উর্বর জমির ওপর খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। আধুনিক সেচব্যবস্থা, উন্নত বীজ ও প্রযুক্তির কারণে যেখানে উৎপাদন বেড়েছে, সেখানে জমি নষ্ট হলে তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তিই ভেঙে পড়বে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক খাল খনন করা হলে তা শুধু কৃষির ক্ষতিই করবে না, বরং এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কৃষকদের মতে, উন্নয়নের নামে উর্বর কৃষিজমি ধ্বংস কোনোভাবেই টেকসই নয়। এতে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে, বাড়বে দারিদ্র্য—যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এলাকাবাসী দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, খাল খননের কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করে আবাদি জমি রক্ষা করতে হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিনির্ভর অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় জনগণের মতামত, জমির মালিকানা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। অপরিকল্পিত খাল খনন খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পীরপুরের এই আন্দোলন এখন শুধু জমি নয়—এটি কৃষকের বেঁচে থাকার লড়াই। দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি যে আরও জটিল হবে, তা বলাই বাহুল্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

“খাসচরে খাল খনন! তিন ফসলি জমি রক্ষায় পাবনায় কৃষকদের ক্ষোভে ফুঁসছে জনপদ”

Update Time : ০৮:২১:০০ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

পাবনা প্রতিনিধি
পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পীরপুর এলাকায় খাসচর বলরামপুর মৌজায় বিস্তীর্ণ তিন ফসলি আবাদি জমির ওপর দিয়ে খাল খননের উদ্যোগকে ঘিরে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক এই খনন কার্যক্রম চালাতে চাচ্ছে, যা কৃষিজমি ও জীবিকার ওপর বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এস.এস খতিয়ান নং-৫৩৮-এর অন্তর্ভুক্ত দাগ নং-১৮৮০ এবং আর.এস দাগ নং ৩৩০৪, ৩৩০৩, ৩২৩১, ৩২৩০, ৩২২৯, ৩২২৮, ৩২২৭, ৩২২৬, ৩২২৫, ৩২২৪, ৩২২৩, ৩২২২, ৩৩১৯, ৩৩১৮, ৩৩১৭, ৩৩১৬, ৩৩১৫, ৩৩১৪ ও ৩৩১৩ (সবগুলো আংশিক) সহ আশপাশের জমিগুলো সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমি। এসব জমিতে বছরের পর বছর ধরে ইরি ধানসহ নানা ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন স্থানীয় কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে এসব উর্বর জমির ওপর খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। আধুনিক সেচব্যবস্থা, উন্নত বীজ ও প্রযুক্তির কারণে যেখানে উৎপাদন বেড়েছে, সেখানে জমি নষ্ট হলে তাদের অর্থনৈতিক ভিত্তিই ভেঙে পড়বে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে জোরপূর্বক খাল খনন করা হলে তা শুধু কৃষির ক্ষতিই করবে না, বরং এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
কৃষকদের মতে, উন্নয়নের নামে উর্বর কৃষিজমি ধ্বংস কোনোভাবেই টেকসই নয়। এতে খাদ্য উৎপাদন কমে যাবে, বাড়বে দারিদ্র্য—যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এলাকাবাসী দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, খাল খননের কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করে আবাদি জমি রক্ষা করতে হবে।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষিনির্ভর অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় জনগণের মতামত, জমির মালিকানা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। অপরিকল্পিত খাল খনন খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পীরপুরের এই আন্দোলন এখন শুধু জমি নয়—এটি কৃষকের বেঁচে থাকার লড়াই। দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি যে আরও জটিল হবে, তা বলাই বাহুল্য।