
হুমায়ূন রাশেদ পাবনা
পাবনার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন সেচযন্ত্রের শব্দ থাকার কথা থাকলেও, অনেক জায়গাই এখন সেচপাম্প নিরব। চলমান তেল সংকটের কারণে কৃষিকাজে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে,তাতে আর কিছু দিন এভাবে চলতে থাকলে স্থবির হয়ে পরবে চাষাবাদ।
পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় জ্বালানি তেল বিশেষ করে ডিজেল তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় ব্যহত হচ্ছে চলতি মৌসুমের চাষাবাদ। সময়মতো সেচ দিতে না পেরে ফসলের মাঠ শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায় পাবনা চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ফরিদপুর ঈশ্বরদী সুজানগর ও সাথিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শত শত একর জমিতে সেচ কাজ স্থবির হয়ে আছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলার ও খুচরা বাজারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চাহিদামতো ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না।
“জমিতে পানি দেওয়া খুব জরুরি, কিন্তু পাম্প চালানোর তেল নেই। বাজারে গেলে বলা হচ্ছে তেল শেষ। এভাবে চললে ফসল ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়বে। ডিলারদের দাবি, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও লজিস্টিক সমস্যার কারণে সময়মতো তেল পৌঁছাচ্ছে না। এই সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই সময়ে সেচ বিঘ্নিত হলে ধানের ফলন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে। এছাড়া সবজি চাষেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ডিজেল সংকটের কারণে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পাওয়ার টিলার বা ট্রাক্টর চালাতে পারছেন না, ফলে জমি প্রস্তুত করার কাজও থমকে আছে।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং বাজারে কোনো কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদার করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে এই মৌসুমে পাবনার কৃষি অর্থনীতি বড় ধরনের খতির সম্মুখীন হতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Reporter Name 









