“রোগী শিকার করতেই ধরা! চাটমোহরে দালাল চক্রে বড় আঘাত—৪ নারী জেলে।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • 129 Time View

”নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা :
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে দীর্ঘদিনের দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অবশেষে প্রশাসনের কঠোর অভিযান—গ্রেপ্তার ৪ নারী, জেল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জরিমানা ও কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকালে হাসপাতাল চত্বরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চার নারী দালালকে আটক করা হয়। অভিযোগ, তারা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছিলেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীকে জানালে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে আটক চারজনকে ৩ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—
রহিমা (৩৩), অনিতা (৪৫), জেসমিন আক্তার (৩৭) ও নার্গিস (৩০)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নারী দালালের মাধ্যমে রোগীদের ফাঁদে ফেলে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিকে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
একই অভিযানে হাসপাতাল গেট সংলগ্ন পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১ মাসের জন্য কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া চৌধুরীপাড়ার দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ দিনের মধ্যে সকল বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সাল মাহমুদ, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবির, ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ থানা পুলিশ, আনসার ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

“রোগী শিকার করতেই ধরা! চাটমোহরে দালাল চক্রে বড় আঘাত—৪ নারী জেলে।

Update Time : ১২:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

”নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা :
চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ঘিরে দীর্ঘদিনের দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অবশেষে প্রশাসনের কঠোর অভিযান—গ্রেপ্তার ৪ নারী, জেল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারে জরিমানা ও কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।
বুধবার (৩০ এপ্রিল) সকালে হাসপাতাল চত্বরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় চার নারী দালালকে আটক করা হয়। অভিযোগ, তারা রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছিলেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরীকে জানালে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে আটক চারজনকে ৩ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—
রহিমা (৩৩), অনিতা (৪৫), জেসমিন আক্তার (৩৭) ও নার্গিস (৩০)।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র নারী দালালের মাধ্যমে রোগীদের ফাঁদে ফেলে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিকে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
একই অভিযানে হাসপাতাল গেট সংলগ্ন পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টার-এ অভিযান চালিয়ে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ১ মাসের জন্য কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
এছাড়া চৌধুরীপাড়ার দি পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার-কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ দিনের মধ্যে সকল বৈধ কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সাল মাহমুদ, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবির, ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ থানা পুলিশ, আনসার ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।