প্রভাবশালীর দাপটে সর্বস্বান্ত মালিকরা”

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৬:৪১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
  • 101 Time View

স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা:
পাবনার বেড়া পৌরসভার বৃশালিকা কোলঘাট এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে নৌ-বন্দর গড়ে তোলা এবং সেই বন্দরকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ইজারা বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিপূরণহীন অবস্থায় জমির প্রকৃত মালিকরা যেমন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, তেমনি বৈধভাবে ইজারা নিয়েও বিপাকে পড়েছেন ইজারাদার।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে বৃশালিকা কোলঘাট ও বাজার গড়ে তোলেন। জমির মালিকরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে বাজার পরিচালনা করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী জমির মালিক মোঃ শোভন বলেন, “এলাকার স্বার্থে আমরা নিজের জমিতে বাজার গড়ে তুলেছিলাম। ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ভাড়া দিতেন, চুক্তিও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়।”
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৮ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করেন। কোনো প্রকার অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কোলঘাট-বাজারটিকে পৌর নৌ-বন্দরে রূপান্তর করা হয়।
আরও অভিযোগ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে এই অবৈধ নৌ-বন্দর সরকারিভাবে নামেমাত্র ইজারা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সে সময় প্রভাবশালী মহলের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেননি। যারা প্রতিবাদ করেছেন, তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য কোলঘাট বাজার ইজারার দরপত্র আহ্বান করা হলে মির্জা মেহেদী হাসান সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা লাভ করেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি টোল আদায়ে চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, জমি অধিগ্রহণ না করা এবং মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার ফলে সৃষ্ট আইনি জটিলতা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে একদিকে ইজারাদার আর্থিক ক্ষতির মুখে, অন্যদিকে জমির মালিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সাবেক মেয়র আব্দুল বাতেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ বিষয়ে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
প্রশ্ন উঠছে—কার ইশারায় দখল, কোথায় গেল আইনের শাসন?
ভুক্তভোগী জমির মালিক ও ইজারাদাররা অবিলম্বে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

প্রভাবশালীর দাপটে সর্বস্বান্ত মালিকরা”

Update Time : ১১:১৬:৪১ অপরাহ্ণ, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা:
পাবনার বেড়া পৌরসভার বৃশালিকা কোলঘাট এলাকায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল করে নৌ-বন্দর গড়ে তোলা এবং সেই বন্দরকে কেন্দ্র করে কোটি টাকার ইজারা বাণিজ্যের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষতিপূরণহীন অবস্থায় জমির প্রকৃত মালিকরা যেমন নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন, তেমনি বৈধভাবে ইজারা নিয়েও বিপাকে পড়েছেন ইজারাদার।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক শতাব্দী আগে এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের সুবিধার্থে বৃশালিকা কোলঘাট ও বাজার গড়ে তোলেন। জমির মালিকরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া নিয়ে বাজার পরিচালনা করে আসছিলেন।
ভুক্তভোগী জমির মালিক মোঃ শোভন বলেন, “এলাকার স্বার্থে আমরা নিজের জমিতে বাজার গড়ে তুলেছিলাম। ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ভাড়া দিতেন, চুক্তিও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়।”
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৮ সালে তৎকালীন পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে ওই ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি দখল করেন। কোনো প্রকার অধিগ্রহণ বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কোলঘাট-বাজারটিকে পৌর নৌ-বন্দরে রূপান্তর করা হয়।
আরও অভিযোগ, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে এই অবৈধ নৌ-বন্দর সরকারিভাবে নামেমাত্র ইজারা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সে সময় প্রভাবশালী মহলের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেননি। যারা প্রতিবাদ করেছেন, তারা হয়রানির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জন্য কোলঘাট বাজার ইজারার দরপত্র আহ্বান করা হলে মির্জা মেহেদী হাসান সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা লাভ করেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি টোল আদায়ে চরম বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, জমি অধিগ্রহণ না করা এবং মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার ফলে সৃষ্ট আইনি জটিলতা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে একদিকে ইজারাদার আর্থিক ক্ষতির মুখে, অন্যদিকে জমির মালিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে সাবেক মেয়র আব্দুল বাতেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ বিষয়ে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
প্রশ্ন উঠছে—কার ইশারায় দখল, কোথায় গেল আইনের শাসন?
ভুক্তভোগী জমির মালিক ও ইজারাদাররা অবিলম্বে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।