অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত খুনি গ্রেফতার।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৭:২১ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • 39 Time View

শাহ্ আলম সরকার
স্টাফ রিপোর্টার।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে এক মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য্য নামের এক র‍্যাব সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল ২২ মে (শুক্রবার) দুপুরে নগরীর ক্বীন ব্রিজের নিচে ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে জিম্মি নাটকের অবসান ঘটিয়ে খুনি মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পিকে (২২) রক্তাক্ত চাকুসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বাপ্পি কোতোয়ালী থানার কাজীরবাজার মোগলটুলা এলাকার আবুল হোসেন ও রুবি বেগমের ছেলে।

ঘটনা যেভাবে ঘটল
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর আনুমানিক ১২:০০ ঘটিকায় লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই (নিঃ) মোঃ মাসুক আহমেদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ দিবাকালীন ‘সিয়েরা-৫’ ডিউটি পালন করছিলেন। ডিউটি চলাকালে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজের নিচে কয়েকজন মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে মাদক সেবন এবং ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখেন তারা। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করার চেষ্টা করলে মাদক কারবারিরা চারদিকে দৌড়ে পালাতে শুরু করে।

বীরত্ব ও নির্মম হত্যাকাণ্ড
মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ক্বীন ব্রিজের অদূরে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত ছিলেন র‍্যাব-৯, সিলেটে কর্মরত কনস্টেবল ইমন আচার্য্য। তিনি পলায়নকারী মাদক ব্যবসায়ী আসাদুল আলম বাপ্পিকে জাপটে ধরে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় বাপ্পি তার কাছে থাকা অত্যন্ত ধারালো চাকু দিয়ে কনস্টেবল ইমন আচার্য্যের বুকের বাম পাশে সজোরে আঘাত করে। চাকুর আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইমন। এই সুযোগে বাপ্পি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত কনস্টেবল ইমন আচার্য্যকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১:৩০ ঘটিকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জিম্মি নাটক ও রুদ্ধশ্বাস গ্রেফতার অভিযান
এদিকে ঘটনার পরপরই ‘কিলো-১’ মোবাইল ডিউটিতে নিয়োজিত কোতোয়ালী থানার এএসআই (নিঃ) মোঃ জামাল মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ খুনি বাপ্পিকে ধাওয়া করতে থাকেন। পুলিশের তাড়া খেয়ে আসামি বাপ্পি তোপখানা এলাকার একটি বাসায় প্রবেশ করে এবং একটি শিশুর গলায় চাকু ধরে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে।

এ সময় পুলিশ সদস্যরা চরম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলের আশ্রয় নেন। জীবনঝুঁকি নিয়ে একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা আসামির হাত থেকে ধারালো চাকুটি ফেলে দিতে সক্ষম হন এবং তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আটক করেন। গ্রেফতারের সময় তীব্র ধস্তাধস্তিতে এএসআই জামাল মিয়া, কনস্টেবল হাকিম উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকুটি উদ্ধারপূর্বক জব্দ করেছে।

শোক প্রকাশ ও আইনগত ব্যবস্থা
দেশপ্রেমিক ও বীর র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য্যের এমন নির্মম মৃত্যুতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা এবং খুনের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

অভিযানে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত খুনি গ্রেফতার।

Update Time : ১১:২৭:২১ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

শাহ্ আলম সরকার
স্টাফ রিপোর্টার।

সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানাধীন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে এক মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে ইমন আচার্য্য নামের এক র‍্যাব সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল ২২ মে (শুক্রবার) দুপুরে নগরীর ক্বীন ব্রিজের নিচে ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর পুলিশি অভিযানে জিম্মি নাটকের অবসান ঘটিয়ে খুনি মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পিকে (২২) রক্তাক্ত চাকুসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত বাপ্পি কোতোয়ালী থানার কাজীরবাজার মোগলটুলা এলাকার আবুল হোসেন ও রুবি বেগমের ছেলে।

ঘটনা যেভাবে ঘটল
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দুপুর আনুমানিক ১২:০০ ঘটিকায় লামাবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এএসআই (নিঃ) মোঃ মাসুক আহমেদ সঙ্গীয় ফোর্সসহ দিবাকালীন ‘সিয়েরা-৫’ ডিউটি পালন করছিলেন। ডিউটি চলাকালে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রিজের নিচে কয়েকজন মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে মাদক সেবন এবং ক্রয়-বিক্রয় করতে দেখেন তারা। এ সময় পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করার চেষ্টা করলে মাদক কারবারিরা চারদিকে দৌড়ে পালাতে শুরু করে।

বীরত্ব ও নির্মম হত্যাকাণ্ড
মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় ক্বীন ব্রিজের অদূরে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত ছিলেন র‍্যাব-৯, সিলেটে কর্মরত কনস্টেবল ইমন আচার্য্য। তিনি পলায়নকারী মাদক ব্যবসায়ী আসাদুল আলম বাপ্পিকে জাপটে ধরে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় বাপ্পি তার কাছে থাকা অত্যন্ত ধারালো চাকু দিয়ে কনস্টেবল ইমন আচার্য্যের বুকের বাম পাশে সজোরে আঘাত করে। চাকুর আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইমন। এই সুযোগে বাপ্পি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত কনস্টেবল ইমন আচার্য্যকে দ্রুত উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১:৩০ ঘটিকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জিম্মি নাটক ও রুদ্ধশ্বাস গ্রেফতার অভিযান
এদিকে ঘটনার পরপরই ‘কিলো-১’ মোবাইল ডিউটিতে নিয়োজিত কোতোয়ালী থানার এএসআই (নিঃ) মোঃ জামাল মিয়া সঙ্গীয় ফোর্সসহ খুনি বাপ্পিকে ধাওয়া করতে থাকেন। পুলিশের তাড়া খেয়ে আসামি বাপ্পি তোপখানা এলাকার একটি বাসায় প্রবেশ করে এবং একটি শিশুর গলায় চাকু ধরে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ফেলে।

এ সময় পুলিশ সদস্যরা চরম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলের আশ্রয় নেন। জীবনঝুঁকি নিয়ে একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা আসামির হাত থেকে ধারালো চাকুটি ফেলে দিতে সক্ষম হন এবং তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে আটক করেন। গ্রেফতারের সময় তীব্র ধস্তাধস্তিতে এএসআই জামাল মিয়া, কনস্টেবল হাকিম উজ্জ্বলসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকুটি উদ্ধারপূর্বক জব্দ করেছে।

শোক প্রকাশ ও আইনগত ব্যবস্থা
দেশপ্রেমিক ও বীর র‍্যাব সদস্য ইমন আচার্য্যের এমন নির্মম মৃত্যুতে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে।

কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, কর্তব্যরত অবস্থায় পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা এবং খুনের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে।