Dhaka 1:40 pm, Sunday, 13 September 2026
রাতের আঁধারে নদীর তলদেশ থেকে ক্যাবল চুরি, যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা

রাতের আঁধারে কীর্তনখোলা নদীর তলদেশ থেকে সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চুরি

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:55:26 pm, Saturday, 5 September 2026
  • 30 Time View

 

পর্ব ১

আসাদুজ্জামান শেখ

বরিশাল নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে কীর্তনখোলা নদীতে গভীর রাতে সাবমেরিন কেবল কাটাকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে এ্যাংকর সিমেন্ট সংলগ্ন হাড্ডির মিল এলাকায় ডুবুরি নামিয়ে নদীর তলদেশ থেকে কেবল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।

‎গোপন সূত্রে জানা যায়, নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয়দানকারী সরোয়ার, ব্যবসায়ী আবুল বাসার,কালা,টিয়া,ছাত্রদল কর্মী পরিচয়দানকারী তামিম, কোমর, রিয়াজুলসহ আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রটির আরও দাবি, ইতোমধ্যে প্রথম দফায় কয়েক লাখ টাকার কেবল সুপরিকল্পিতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

‎চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, খুলনা থেকে ডুবুরি এনে কীর্তনখোলা নদীতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূল দায়িত্ব রয়েছেন সরোয়ার,বাশার,কালা,তামিম।

‎এদিকে কেবল বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চক্রটির সদস্যদের মধ্যে বিরোধ ও বাকবিতণ্ডার একাধিক রেকর্ড প্রতিবেদকদের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

‎অন্যদিকে চক্রটির দাবি, পল্লী বিদ্যুতের টেন্ডারের মাধ্যমে পুরোনো কেবল উত্তোলন করছে তারা। তবে সেই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, কার্যাদেশ বা চুক্তিপত্র দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎এরই মধ্যে পুলিশের অভিযানে দুই পিস কেবল উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে থানা পুলিশ কেবল উদ্ধার করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

‎সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এটি কি চুরি, নাকি টেন্ডারের আড়ালে সরকারি সম্পদ লুট? স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজরের মধ্যেই যদি সরকারি সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে?

‎এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোন সাড়া মেলেনি।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির দাবি, এই চক্রের সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে, প্রতিনিয়ত নিচ্ছেন টাকার ভাগ।

‎অপরদিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, দুই পিস কেবল উদ্ধার করে থানায় জব্দ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস থেকে কোনো অভিযোগ বা মামলা করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে শুধু কেবল উদ্ধার করলেই হবে না; কেবলগুলোর উৎস, উত্তোলনের অনুমতি, কথিত টেন্ডারের বৈধতা, বিক্রির স্থান এবং টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎বিস্তারিত তথ্য ও ছবিসহ আরও আসছে দ্বিতীয় পর্বে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

শিক্ষার্থী সংকটে কুড়িগ্রামের মুড়িয়াহাট দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়: শিক্ষক থাকলেও নেই শিক্ষার্থী স্থানীয়দের অভিযোগ  

রাতের আঁধারে নদীর তলদেশ থেকে ক্যাবল চুরি, যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা

রাতের আঁধারে কীর্তনখোলা নদীর তলদেশ থেকে সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল চুরি

Update Time : 09:55:26 pm, Saturday, 5 September 2026

 

পর্ব ১

আসাদুজ্জামান শেখ

বরিশাল নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে কীর্তনখোলা নদীতে গভীর রাতে সাবমেরিন কেবল কাটাকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে এ্যাংকর সিমেন্ট সংলগ্ন হাড্ডির মিল এলাকায় ডুবুরি নামিয়ে নদীর তলদেশ থেকে কেবল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে।

‎গোপন সূত্রে জানা যায়, নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয়দানকারী সরোয়ার, ব্যবসায়ী আবুল বাসার,কালা,টিয়া,ছাত্রদল কর্মী পরিচয়দানকারী তামিম, কোমর, রিয়াজুলসহ আরও প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। সূত্রটির আরও দাবি, ইতোমধ্যে প্রথম দফায় কয়েক লাখ টাকার কেবল সুপরিকল্পিতভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

‎চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, খুলনা থেকে ডুবুরি এনে কীর্তনখোলা নদীতে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। মূল দায়িত্ব রয়েছেন সরোয়ার,বাশার,কালা,তামিম।

‎এদিকে কেবল বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে চক্রটির সদস্যদের মধ্যে বিরোধ ও বাকবিতণ্ডার একাধিক রেকর্ড প্রতিবেদকদের হাতে সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।

‎অন্যদিকে চক্রটির দাবি, পল্লী বিদ্যুতের টেন্ডারের মাধ্যমে পুরোনো কেবল উত্তোলন করছে তারা। তবে সেই দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, কার্যাদেশ বা চুক্তিপত্র দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।

‎এরই মধ্যে পুলিশের অভিযানে দুই পিস কেবল উদ্ধারের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে থানা পুলিশ কেবল উদ্ধার করলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

‎সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এটি কি চুরি, নাকি টেন্ডারের আড়ালে সরকারি সম্পদ লুট? স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজরের মধ্যেই যদি সরকারি সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে এর দায়ভার কে নেবে?

‎এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ ও ওজোপাডিকোর দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোন সাড়া মেলেনি।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তির দাবি, এই চক্রের সঙ্গে বিদ্যুৎ অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে, প্রতিনিয়ত নিচ্ছেন টাকার ভাগ।

‎অপরদিকে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন-উল ইসলাম বলেন, দুই পিস কেবল উদ্ধার করে থানায় জব্দ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিস থেকে কোনো অভিযোগ বা মামলা করা হলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

‎স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে শুধু কেবল উদ্ধার করলেই হবে না; কেবলগুলোর উৎস, উত্তোলনের অনুমতি, কথিত টেন্ডারের বৈধতা, বিক্রির স্থান এবং টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ—সবকিছুই তদন্তের আওতায় আনতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

‎বিস্তারিত তথ্য ও ছবিসহ আরও আসছে দ্বিতীয় পর্বে।