Dhaka 12:49 am, Thursday, 29 October 2026

৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় শাহীন ও হান্নান পল্লবীতে গ্রেপ্তার, অবৈধ ওষুধ ব্যবসার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে

  • Reporter Name
  • Update Time : 09:08:19 pm, Tuesday, 4 August 2026
  • 1009 Time View

রোকন বিশ্বাস; নিজস্ব প্রতিনিধি:

৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে দায়ের হওয়া মামলার আসামি হান্নান মোল্লা ওরফে লুচ্চা হান্নান ও শাহীন মোল্লা ড্রাগস শাহীনকে রাজধানীর পল্লবী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে একই মামলায় বা অভিযানে তার ভাই হান্নান মোল্লাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পাবনার ফরিদপুর উপজেলার মাজাট গ্রামের মৃত আব্দুল আজীজ মোল্লার ছেলে।

পাবনা সদর উপজেলার আটুয়া এলাকার বাসিন্দা মুক্তার হোসেন বিশ্বাসের পক্ষে শরীফউদ্দিন বাদী হয়ে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সিআর-৪১৬/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শাহীন মোল্লার সঙ্গে বাদীপক্ষের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিলে বাদীপক্ষ প্রথমে ৩১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে আরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে এবং অতিরিক্ত অংশীদার যুক্ত হলে ব্যবসা ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়। এ অবস্থায় বাদীপক্ষ তার শ্বশুর মোক্তার বিশ্বাসকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বিদেশ থেকে ফিরে অবসর জীবনের সঞ্চয় ব্যবসায় বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে অর্থ প্রদান করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিনিয়োগের অর্থ গ্রহণের পর কোনো লাভের অংশ প্রদান করেননি, বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিকার চেয়ে ৩০ মার্চ পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সিআর-৪১৬/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ‘লাইফ কেয়ার ফার্মা’ নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে ওষুধ সংগ্রহ, প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব ওষুধ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এছাড়া রাজধানীর চকবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং ভারতের কিছু এলাকায়ও এসব ওষুধ সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা জেলার মিরপুর-১২ পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী জানান, ৪ আগস্ট আদালতের নির্দেশে পল্লবী থানা পুলিশ হান্নান মোল্লা ও শাহীন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভিসার প্রলোভনে লিবিয়ায় মানবপাচার? উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বন্দিত্ব, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ—নেপথ্যে কারা?

৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় শাহীন ও হান্নান পল্লবীতে গ্রেপ্তার, অবৈধ ওষুধ ব্যবসার অভিযোগও উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে

Update Time : 09:08:19 pm, Tuesday, 4 August 2026

রোকন বিশ্বাস; নিজস্ব প্রতিনিধি:

৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে দায়ের হওয়া মামলার আসামি হান্নান মোল্লা ওরফে লুচ্চা হান্নান ও শাহীন মোল্লা ড্রাগস শাহীনকে রাজধানীর পল্লবী থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। তার সঙ্গে একই মামলায় বা অভিযানে তার ভাই হান্নান মোল্লাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পাবনার ফরিদপুর উপজেলার মাজাট গ্রামের মৃত আব্দুল আজীজ মোল্লার ছেলে।

পাবনা সদর উপজেলার আটুয়া এলাকার বাসিন্দা মুক্তার হোসেন বিশ্বাসের পক্ষে শরীফউদ্দিন বাদী হয়ে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সিআর-৪১৬/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শাহীন মোল্লার সঙ্গে বাদীপক্ষের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি ব্যবসায় বিনিয়োগের প্রস্তাব দিলে বাদীপক্ষ প্রথমে ৩১ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা বলে আরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে এবং অতিরিক্ত অংশীদার যুক্ত হলে ব্যবসা ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়। এ অবস্থায় বাদীপক্ষ তার শ্বশুর মোক্তার বিশ্বাসকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বিদেশ থেকে ফিরে অবসর জীবনের সঞ্চয় ব্যবসায় বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে অর্থ প্রদান করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা বিনিয়োগের অর্থ গ্রহণের পর কোনো লাভের অংশ প্রদান করেননি, বরং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে টাকা ফেরত চাইলে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিকার চেয়ে ৩০ মার্চ পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে সিআর-৪১৬/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে ‘লাইফ কেয়ার ফার্মা’ নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে ওষুধ সংগ্রহ, প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়াই এসব ওষুধ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হতো, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এছাড়া রাজধানীর চকবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং ভারতের কিছু এলাকায়ও এসব ওষুধ সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা জেলার মিরপুর-১২ পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান আলী জানান, ৪ আগস্ট আদালতের নির্দেশে পল্লবী থানা পুলিশ হান্নান মোল্লা ও শাহীন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে।