Dhaka 2:32 am, Thursday, 29 October 2026

রাস্তা নেই, ভেঙে পড়ছে স্কুল—ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকিতে শিক্ষা!

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:22:27 am, Thursday, 30 April 2026
  • 328 Time View

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের বৃকালিয়ানি (জয়গনপুর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন যেন দুর্ভোগ, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। প্রায় এক মাস ধরে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের প্রধান রাস্তা বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মাঠ কিংবা দু’ঘরের সরু চিপা পথ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এই বিকল্প পথও অচল হয়ে পড়বে। তখন বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর মধ্যেই নতুন করে দেখা দিয়েছে আরও ভয়াবহ বিপদ। বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে র‍্যাম (Ram) ভেঙে গিয়ে মেঝের নিচের বালি সরে গেছে। ফলে ভবনের নিচের অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে এবং পুরো ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কক্ষে মেঝে ফেটে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়, ২০২২ সালে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৫ লাখ ২২ হাজার ৩১০ টাকা ব্যয়ে নিচতলায় ৪টি এবং দোতলায় ১টি কক্ষসহ মোট ৫ কক্ষের ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টি হস্তান্তর করে। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ভবনের মেঝে ফেটে যাওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন রাস্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সম্প্রতি সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেছেন এবং আরও একটি ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে করে বিদ্যালয়ের রাস্তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
বিদ্যালয়টিতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এমন পরিস্থিতিতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত রাস্তা উন্মুক্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টি ১৯৮৯ সালে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১৩ সালে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভিসার প্রলোভনে লিবিয়ায় মানবপাচার? উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বন্দিত্ব, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ—নেপথ্যে কারা?

রাস্তা নেই, ভেঙে পড়ছে স্কুল—ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকিতে শিক্ষা!

Update Time : 10:22:27 am, Thursday, 30 April 2026

পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার ডেমরা ইউনিয়নের বৃকালিয়ানি (জয়গনপুর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন যেন দুর্ভোগ, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। প্রায় এক মাস ধরে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের প্রধান রাস্তা বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে মাঠ কিংবা দু’ঘরের সরু চিপা পথ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে এই বিকল্প পথও অচল হয়ে পড়বে। তখন বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর মধ্যেই নতুন করে দেখা দিয়েছে আরও ভয়াবহ বিপদ। বৃহস্পতিবার রাতে বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে র‍্যাম (Ram) ভেঙে গিয়ে মেঝের নিচের বালি সরে গেছে। ফলে ভবনের নিচের অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে এবং পুরো ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কক্ষে মেঝে ফেটে যাওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়, ২০২২ সালে পিইডিপি-৪ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৫ লাখ ২২ হাজার ৩১০ টাকা ব্যয়ে নিচতলায় ৪টি এবং দোতলায় ১টি কক্ষসহ মোট ৫ কক্ষের ভবন নির্মাণ করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ জুলাই ঠিকাদার কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয়টি হস্তান্তর করে। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ভবনের মেঝে ফেটে যাওয়ায় নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জটিলতা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন রাস্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও সম্প্রতি সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করেছেন এবং আরও একটি ঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে করে বিদ্যালয়ের রাস্তা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।
বিদ্যালয়টিতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এমন পরিস্থিতিতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত রাস্তা উন্মুক্ত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, বিদ্যালয়টি ১৯৮৯ সালে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১৩ সালে সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে।