Dhaka 1:35 am, Thursday, 29 October 2026

“সত্য লিখলেই শাস্তি! ফেসবুক পোস্টে ক্ষেপে সাংবাদিক পেটাল ‘ক্ষমতার ছায়া’”

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:51:59 pm, Thursday, 30 April 2026
  • 343 Time View

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ছোট ভাইকে তুলে নেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ঘনিষ্ঠজন ও তার ছোট ভাইয়ের নাম উঠে এসেছে—যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী মো. শাহিবুল ইসলাম পিপুল, Bangla Tribune-এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক যুগান্তর-এর ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি। এ ঘটনায় তিনি ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কলেজপাড়া (বইদাপাড়া) এলাকায় ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিনসহ কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামীকে হাসপাতালপাড়া সংলগ্ন শিশু কুঞ্জ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানার পর পিপুল তাৎক্ষণিকভাবে থানাকে অবহিত করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
কিন্তু সেখানেই শেষ নয়—ঘটনার প্রতিবাদে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেওয়াই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায়! অভিযোগ অনুযায়ী, সেই পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হুমকি ও তৎপরতা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ‘বাহার’ নামে এক ব্যক্তি ফোন করে পিপুলের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং পোস্ট নিয়ে জবাবদিহি চায়। পরে ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজ ও তার সহযোগীরা তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি তারাই অপহরণের সঙ্গে জড়িত বলে প্রকাশ্যে স্বীকারও করে।
এরপর নাটকীয়ভাবে যুক্ত হন শরীফ—স্থানীয় বিএনপি নেতার ছোট ভাই। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে সাংবাদিক পিপুলকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে। তানভীর নামে এক ব্যক্তি তাকে জোর করে একটি সিএনজিতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে কৌশলে পালিয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান তিনি।
ঘটনার সময় ভাঙ্গুড়া থানার এসআই আল-আমিন হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যায়—যা এলাকায় ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক পিপুল সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ বলেন,
“ঘটনাটি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভাঙ্গুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম জানান,
“লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশ্ন এখন একটাই:
সত্য প্রকাশ করাই কি অপরাধ?
নাকি ‘ক্ষমতার ছায়া’ থাকলেই আইনের ঊর্ধ্বে সবাই?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভিসার প্রলোভনে লিবিয়ায় মানবপাচার? উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বন্দিত্ব, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ—নেপথ্যে কারা?

“সত্য লিখলেই শাস্তি! ফেসবুক পোস্টে ক্ষেপে সাংবাদিক পেটাল ‘ক্ষমতার ছায়া’”

Update Time : 10:51:59 pm, Thursday, 30 April 2026

নিজস্ব প্রতিনিধি, পাবনা :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ছোট ভাইকে তুলে নেওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ঘনিষ্ঠজন ও তার ছোট ভাইয়ের নাম উঠে এসেছে—যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী মো. শাহিবুল ইসলাম পিপুল, Bangla Tribune-এর পাবনা জেলা প্রতিনিধি এবং দৈনিক যুগান্তর-এর ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি। এ ঘটনায় তিনি ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কলেজপাড়া (বইদাপাড়া) এলাকায় ফিরোজ, হাসিব, মারুফ ও আল-আমিনসহ কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক পিপুলের ছোট ভাই ইয়াসিন আলী সামীকে হাসপাতালপাড়া সংলগ্ন শিশু কুঞ্জ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানার পর পিপুল তাৎক্ষণিকভাবে থানাকে অবহিত করলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
কিন্তু সেখানেই শেষ নয়—ঘটনার প্রতিবাদে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দেওয়াই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায়! অভিযোগ অনুযায়ী, সেই পোস্টকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হুমকি ও তৎপরতা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ‘বাহার’ নামে এক ব্যক্তি ফোন করে পিপুলের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং পোস্ট নিয়ে জবাবদিহি চায়। পরে ভাঙ্গুড়া সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ফিরোজ ও তার সহযোগীরা তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। এমনকি তারাই অপহরণের সঙ্গে জড়িত বলে প্রকাশ্যে স্বীকারও করে।
এরপর নাটকীয়ভাবে যুক্ত হন শরীফ—স্থানীয় বিএনপি নেতার ছোট ভাই। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল মুহূর্তেই ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে সাংবাদিক পিপুলকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে। তানভীর নামে এক ব্যক্তি তাকে জোর করে একটি সিএনজিতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে কৌশলে পালিয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পান তিনি।
ঘটনার সময় ভাঙ্গুড়া থানার এসআই আল-আমিন হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে যায়—যা এলাকায় ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনায় সাংবাদিক পিপুল সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বুরুজ বলেন,
“ঘটনাটি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভাঙ্গুড়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম জানান,
“লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশ্ন এখন একটাই:
সত্য প্রকাশ করাই কি অপরাধ?
নাকি ‘ক্ষমতার ছায়া’ থাকলেই আইনের ঊর্ধ্বে সবাই?