
হুমায়ূন রাশেদ পাবনা প্রতিনিধি :-
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ঠিকাদারের কাছ থেকে ২ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা একটি কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
প্রতারণার এ ঘটনায় গত ৩ সেপ্টেম্বর পাবনা ঈশ্বরদী থানায় মামলা হলেও ১৪ অক্টোবর বুধবার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশাদুর রহমান আসাদ । গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের নতুন রূপপুর এলাকার ইসলাম মণ্ডলের দুই ছেলে সুপ্ত ইসলাম জীবন (২৭) ও দীপ্ত ইসলাম (২৫)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাশিয়ার এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট এএসই এবং ‘ইএসকেএম’ কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিত এই চক্রটি। এরপর ভুয়া কার্যাদেশ ওয়ার্ক অর্ডার প্রদান, মালামাল কেনা, বিল পাস এবং ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধসহ নানা অজুহাতে তারা ধাপে ধাপে টাকা হাতিয়ে নিত। ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল পূর্বপাড়ার বাসিন্দা ঠিকাদার মোহাম্মদ বিন ছালাম এই প্রতারণার শিকার হন। তাঁর কাছ থেকে নগদ ২ কোটি ৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং ৪৪ লাখ টাকার মালামাল আত্মসাতের অভিযোগে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পর তদন্তে নামে পুলিশ। এর ধারাবাহিকতায় ঘটনার তিন দিন পর গত ৬ সেপ্টেম্বর আসামি দীপ্ত ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে মামলার অপর আসামি সুপ্ত ইসলাম জীবন গত ৬ জুলাই অস্ত্রসহ চার সহযোগীসহ র্যাবের হাতে আটক হয়ে বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সঞ্চয় চক্রবর্তী জানান, প্রতারণার পাশাপাশি এই চক্রের সদস্যরা মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত ছিল। গ্রেপ্তার দীপ্ত ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়া বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরাও আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কিশোর গ্যাংয়ের এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। মামলার এজাহারের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রধান অভিযুক্ত দুই ভাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদেরও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Reporter Name 



















