Dhaka 3:34 am, Thursday, 29 October 2026

পার্বতীপুরে স্বামীর বাড়ি থেকে স্ত্রীকে উচ্ছেদ ও বসতঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ 

স্টাফ রিপোর্টার ঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে এক অসহায় নারীর বসতঘর ভেঙে ফেলার অভিযোগ তুলেন উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বৈগ্রামের কাশেম আলীর স্ত্রী আলিমুন নেছা। জানা গেছে উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়ন বৈগ্রামের আলিমুন নেছা দীর্ঘ দিন মানবেতর জীবনযাপন করে অতিষ্ঠ হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমি আলিমুন নেছা (৫০), স্বামী- মোঃ আবুল কাশেম, সাং- বৈগ্রাম, ০৯নং হামিদপুর ইউনিয়ন, থানা পার্বতীপুর, জেলা দিনাজপুর। এই মর্মে গত ১১/০৯/২০২৬ তারিখ দুপুর ১টার দিকে তিনি স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে বিবাদী ১. মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৩৫), ২. মোছাঃ লাকী বেগম (৩৮), ৩. মোছাঃ নার্গিস বেগম (৪০), ৪. মোছাঃ ইস্তি বেগম ইলা (৩০), ৫. মোছাঃ লতিফুন নেছা (৫৮), সর্ব সাং- বৈগ্রাম, তাকে স্বামীর বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেন। তিনি যেতে অস্বীকার করলে বিবাদীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি বসতঘর জোরপূর্বক ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ১,৫০,০০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি অভিযোগে আরও বলেন, চিৎকার শুনে প্রতিবেশী মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৪০) ও মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৮) সহ স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বিবাদীগণ তাকে প্রকাশ্যে খুন-জখম ও লাশ গুমের হুমকি দেয়। ভুক্তভোগী আলিমুন নেছা অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে আমার ভরণপোষণ দেয় না। আমি অনেক কষ্টে রোজগার করে চলি। আমার স্বামীর পাশেই পাকা দালান বাড়ি, সেখানে সে অন্য স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছে আর আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে আমার ঘর ভেঙে দিয়েছে। আমি আমার ঘর পুনরায় তৈরি করে স্বামীর জায়গায় থাকতে চাওয়ার কথা জানান। এ বিষয়ে ৯ নং হামিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রেজওয়ানুল হক বলেন, “এই জায়গার বদলে অন্য স্থানে কাশেম আলী তার স্ত্রীকে জায়গা দেবে বলে আমাকে জানিয়েছে। আমি তার ঘর ভাঙতে বলিনি, বরং ঘর তোলার জন্য তাকে কিছু টাকা দিয়ে সহায়তা করেছি বলে জানান। ভুক্তভোগী আরও জানান, তিনি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এ বিষয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভিসার প্রলোভনে লিবিয়ায় মানবপাচার? উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বন্দিত্ব, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ—নেপথ্যে কারা?

পার্বতীপুরে স্বামীর বাড়ি থেকে স্ত্রীকে উচ্ছেদ ও বসতঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ 

Update Time : 07:07:33 pm, Monday, 28 September 2026

স্টাফ রিপোর্টার ঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে এক অসহায় নারীর বসতঘর ভেঙে ফেলার অভিযোগ তুলেন উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বৈগ্রামের কাশেম আলীর স্ত্রী আলিমুন নেছা। জানা গেছে উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়ন বৈগ্রামের আলিমুন নেছা দীর্ঘ দিন মানবেতর জীবনযাপন করে অতিষ্ঠ হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমি আলিমুন নেছা (৫০), স্বামী- মোঃ আবুল কাশেম, সাং- বৈগ্রাম, ০৯নং হামিদপুর ইউনিয়ন, থানা পার্বতীপুর, জেলা দিনাজপুর। এই মর্মে গত ১১/০৯/২০২৬ তারিখ দুপুর ১টার দিকে তিনি স্বামীর বাড়িতে অবস্থানকালে বিবাদী ১. মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৩৫), ২. মোছাঃ লাকী বেগম (৩৮), ৩. মোছাঃ নার্গিস বেগম (৪০), ৪. মোছাঃ ইস্তি বেগম ইলা (৩০), ৫. মোছাঃ লতিফুন নেছা (৫৮), সর্ব সাং- বৈগ্রাম, তাকে স্বামীর বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলেন। তিনি যেতে অস্বীকার করলে বিবাদীগণ ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি বসতঘর জোরপূর্বক ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় ১,৫০,০০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি অভিযোগে আরও বলেন, চিৎকার শুনে প্রতিবেশী মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৪০) ও মোঃ আলমগীর হোসেন (৩৮) সহ স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে বিবাদীগণ তাকে প্রকাশ্যে খুন-জখম ও লাশ গুমের হুমকি দেয়। ভুক্তভোগী আলিমুন নেছা অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে আমার ভরণপোষণ দেয় না। আমি অনেক কষ্টে রোজগার করে চলি। আমার স্বামীর পাশেই পাকা দালান বাড়ি, সেখানে সে অন্য স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করছে আর আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে আমার ঘর ভেঙে দিয়েছে। আমি আমার ঘর পুনরায় তৈরি করে স্বামীর জায়গায় থাকতে চাওয়ার কথা জানান। এ বিষয়ে ৯ নং হামিদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ রেজওয়ানুল হক বলেন, “এই জায়গার বদলে অন্য স্থানে কাশেম আলী তার স্ত্রীকে জায়গা দেবে বলে আমাকে জানিয়েছে। আমি তার ঘর ভাঙতে বলিনি, বরং ঘর তোলার জন্য তাকে কিছু টাকা দিয়ে সহায়তা করেছি বলে জানান। ভুক্তভোগী আরও জানান, তিনি স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এ বিষয়ে পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।