Dhaka 3:34 am, Thursday, 29 October 2026

২০২১ সালে বিয়ে, ২০২৪ সালে দ্বিতীয় কাবিননামা, চাটমোহরে গৃহবধূর নির্যাতনের অভিযোগ, শ্বশুরের পাল্টা অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : 07:23:20 pm, Friday, 25 September 2026
  • 77 Time View

ডেক্স-নিউজঃ
পাবনার চাটমোহর উপজেলার বনগ্রাম বাজার সংলগ্ন এলাকায় তানিয়া খাতুন নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সেনাবাহিনীতে কর্মরত সৈনিক সবুজ মাহমুদের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় গৃহবধূর শ্বশুর আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিকও তানিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার পাল্টা অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী তানিয়া খাতুনের দাবি, ২০২১ সালে চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের মেঘেরপাড়া এলাকার আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিকের ছেলে সবুজ মাহমুদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার পরিবারের কাছ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্বামী মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিস দাবি করেন এবং এসব দাবি পূরণ করতে না পারায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তানিয়া।
তানিয়ার আরও অভিযোগ, দাম্পত্য জীবনে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি যৌন নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় আগে থানায় মামলা করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির নম্বর ৫১৭/২০২৫, চাটমোহর।
এ ছাড়া ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে পারিবারিক আদালতে ২৩৭/২০২৫ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে জানান তানিয়া। তার অভিযোগ, ওই মামলা থেকে রক্ষা পেতে এবং চাকরি সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে তাকে সংসারে রাখার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
তানিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তার পরিবার সংশ্লিষ্ট সেনাক্যাম্পেও অভিযোগ করে। সেখানে আর নির্যাতন করা হবে না, এমন আশ্বাসের পর তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। তবে কিছুদিন পর আবারও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে বাজারে যাওয়ার সময় সেখান থেকে বের হয়ে চাটমোহর থানায় গিয়ে নতুন করে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান তানিয়া।
সামরিক নথিতে দুই দফা কাবিননামার তথ্য, এদিকে সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্তৃপক্ষের কয়েকটি নথির তথ্য নিয়েও সামনে এসেছে বিয়ের সময়কাল ও কাবিননামা নিয়ে ভিন্ন তথ্য।
প্রাপ্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সৈনিক সবুজ মাহমুদ ৩০ অক্টোবর ২০২১ তারিখে চাকরিতে যোগদানের পূর্বে সাত লাখ টাকা যৌতুক গ্রহণ করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং প্রথম কাবিননামা সম্পন্ন করেন, এমন তথ্য স্থানীয়দের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে দ্বিতীয় কাবিননামা করার তথ্য ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, সৈনিক সবুজ মাহমুদের জন্মতারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ এবং তার স্ত্রীর জন্মতারিখ ১ ডিসেম্বর ১৯৯৭ উল্লেখ রয়েছে অর্থাৎ সৈনিক সবুজ মাহমুদের চেয়ে তার স্ত্রী তানিয়া ৬ বছরের বড়।
সৈনিকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী তানিয়া খাতুনের অভিযোগের বিষয়ে সদর দপ্তর ১৭ পদাতিক ডিভিশন, ১১ পদাতিক ডিভিশন এবং ১১ এফআইইউ-এর বিভিন্ন পত্রে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য পর্যালোচনার কথা উল্লেখ রয়েছে।
২০২৫ সালের ঘটনা উল্লেখ করে নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে পারিবারিক কলহের জেরে সৈনিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার স্ত্রীর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তানিয়া তার বাবার সহায়তায় চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে নথিতে বলা হয়, রাতে ভর্তি থাকার পর গুরুতর আঘাত না থাকায় পরদিন দুপুরে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।তবে একই নথিতে দুই পরিবারের মধ্যে অর্থনৈতিক সামঞ্জস্যের অভাবে বিভিন্ন সময়ে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিয়ের সাল নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্নতা দেখা দিয়েছে, এদিকে তানিয়ার শ্বশুর আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক দাবি করেছেন, তার ছেলে সবুজ মাহমুদের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে ২০২৪ সালে দেওয়া হয়। তবে তানিয়ার দাবি, তাদের বিয়ে ২০২১ সালেই পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এখানেই বিয়ের সময়কাল নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যেতে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। সামরিক নথিতে আবার ২০২১ সালের প্রথম কাবিননামা এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় কাবিননামার তথ্য উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এক রহস্যে জনকভাবে চাঞ্চল্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে তানিয়া ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তার শ্বশুর আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নয়, ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে তানিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে চাটমোহর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক। তার দাবি, তানিয়া তাদের বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় নগদ ২ লাখ টাকা এবং প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।

চাটমোহর থানার এ-এসআই আলামিন হোসেন জানান, তানিয়া তার শাশুড়ির সঙ্গে বাজার করতে এসেছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে সু-কৌশলে তার বাবার বাড়িতে চলে যান।
আলামিন হোসেন আরো বলেন, তানিয়াকে খুঁজে না পেয়ে তার শ্বশুর থানায় এসে পুত্রবধূকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। একই দিনে তানিয়া খাতুনও থানায় এসে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন।
শ্বশুরের অভিযোগ অনুযায়ী তানিয়া বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এএসআই আলামিন হোসেন বলেন, শাশুড়ির সঙ্গে বাজারে আসা অবস্থায় একজন ব্যক্তি এ ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন, এটা স্বাভাবিক নয়।

একদিকে তানিয়ার পক্ষ থেকে যৌতুক, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, অন্যদিকে শ্বশুরের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার পাল্টা অভিযোগ, দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে ২০২১ সালে প্রথম বিয়ে ও কাবিননামা হয়ে থাকলে পরবর্তী কাবিননামার প্রয়োজন কেন হয়েছিল, ২০২৩/২০২৪ সালের বিয়ের দাবির প্রকৃত ভিত্তি কী, একজনের বিয়ে কেন কি কারণে একই কাবননামায় করা হয়েছে এর মধ্যে কাদের ইন্ধন আছে এমন প্রশ্ন সচেতন মানুষের মনে। প্রথম পর্ব সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ২য় পর্বে থাকবে বিস্তারিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভিসার প্রলোভনে লিবিয়ায় মানবপাচার? উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বন্দিত্ব, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ—নেপথ্যে কারা?

২০২১ সালে বিয়ে, ২০২৪ সালে দ্বিতীয় কাবিননামা, চাটমোহরে গৃহবধূর নির্যাতনের অভিযোগ, শ্বশুরের পাল্টা অভিযোগ

Update Time : 07:23:20 pm, Friday, 25 September 2026

ডেক্স-নিউজঃ
পাবনার চাটমোহর উপজেলার বনগ্রাম বাজার সংলগ্ন এলাকায় তানিয়া খাতুন নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সেনাবাহিনীতে কর্মরত সৈনিক সবুজ মাহমুদের বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় গৃহবধূর শ্বশুর আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিকও তানিয়ার বিরুদ্ধে অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার পাল্টা অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী তানিয়া খাতুনের দাবি, ২০২১ সালে চাটমোহর উপজেলার ফৈলজানা ইউনিয়নের মেঘেরপাড়া এলাকার আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিকের ছেলে সবুজ মাহমুদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার পরিবারের কাছ থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। পরে স্বামী মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন জিনিস দাবি করেন এবং এসব দাবি পূরণ করতে না পারায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তানিয়া।
তানিয়ার আরও অভিযোগ, দাম্পত্য জীবনে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি যৌন নির্যাতনেরও শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় আগে থানায় মামলা করেছিলেন বলেও জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলাটির নম্বর ৫১৭/২০২৫, চাটমোহর।
এ ছাড়া ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে পারিবারিক আদালতে ২৩৭/২০২৫ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে জানান তানিয়া। তার অভিযোগ, ওই মামলা থেকে রক্ষা পেতে এবং চাকরি সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে তাকে সংসারে রাখার আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
তানিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে তার পরিবার সংশ্লিষ্ট সেনাক্যাম্পেও অভিযোগ করে। সেখানে আর নির্যাতন করা হবে না, এমন আশ্বাসের পর তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান। তবে কিছুদিন পর আবারও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে বাজারে যাওয়ার সময় সেখান থেকে বের হয়ে চাটমোহর থানায় গিয়ে নতুন করে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানান তানিয়া।
সামরিক নথিতে দুই দফা কাবিননামার তথ্য, এদিকে সংশ্লিষ্ট সামরিক কর্তৃপক্ষের কয়েকটি নথির তথ্য নিয়েও সামনে এসেছে বিয়ের সময়কাল ও কাবিননামা নিয়ে ভিন্ন তথ্য।
প্রাপ্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সৈনিক সবুজ মাহমুদ ৩০ অক্টোবর ২০২১ তারিখে চাকরিতে যোগদানের পূর্বে সাত লাখ টাকা যৌতুক গ্রহণ করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং প্রথম কাবিননামা সম্পন্ন করেন, এমন তথ্য স্থানীয়দের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে সাত লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমোহর ধার্য করে দ্বিতীয় কাবিননামা করার তথ্য ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, সৈনিক সবুজ মাহমুদের জন্মতারিখ ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ এবং তার স্ত্রীর জন্মতারিখ ১ ডিসেম্বর ১৯৯৭ উল্লেখ রয়েছে অর্থাৎ সৈনিক সবুজ মাহমুদের চেয়ে তার স্ত্রী তানিয়া ৬ বছরের বড়।
সৈনিকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী তানিয়া খাতুনের অভিযোগের বিষয়ে সদর দপ্তর ১৭ পদাতিক ডিভিশন, ১১ পদাতিক ডিভিশন এবং ১১ এফআইইউ-এর বিভিন্ন পত্রে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তথ্য পর্যালোচনার কথা উল্লেখ রয়েছে।
২০২৫ সালের ঘটনা উল্লেখ করে নথিতে আরও বলা হয়েছে, ২৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে পারিবারিক কলহের জেরে সৈনিকের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার স্ত্রীর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তানিয়া তার বাবার সহায়তায় চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে নথিতে বলা হয়, রাতে ভর্তি থাকার পর গুরুতর আঘাত না থাকায় পরদিন দুপুরে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।তবে একই নথিতে দুই পরিবারের মধ্যে অর্থনৈতিক সামঞ্জস্যের অভাবে বিভিন্ন সময়ে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিয়ের সাল নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্নতা দেখা দিয়েছে, এদিকে তানিয়ার শ্বশুর আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক দাবি করেছেন, তার ছেলে সবুজ মাহমুদের সঙ্গে তানিয়ার বিয়ে ২০২৪ সালে দেওয়া হয়। তবে তানিয়ার দাবি, তাদের বিয়ে ২০২১ সালেই পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এখানেই বিয়ের সময়কাল নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যেতে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে। সামরিক নথিতে আবার ২০২১ সালের প্রথম কাবিননামা এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় কাবিননামার তথ্য উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এক রহস্যে জনকভাবে চাঞ্চল্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে তানিয়া ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তার শ্বশুর আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নয়, ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে তানিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে চাটমোহর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আব্দুল কুদ্দুস প্রামাণিক। তার দাবি, তানিয়া তাদের বাড়ি থেকে যাওয়ার সময় নগদ ২ লাখ টাকা এবং প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ টাকা।

চাটমোহর থানার এ-এসআই আলামিন হোসেন জানান, তানিয়া তার শাশুড়ির সঙ্গে বাজার করতে এসেছিলেন। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে সু-কৌশলে তার বাবার বাড়িতে চলে যান।
আলামিন হোসেন আরো বলেন, তানিয়াকে খুঁজে না পেয়ে তার শ্বশুর থানায় এসে পুত্রবধূকে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। একই দিনে তানিয়া খাতুনও থানায় এসে তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ করেন।
শ্বশুরের অভিযোগ অনুযায়ী তানিয়া বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে এএসআই আলামিন হোসেন বলেন, শাশুড়ির সঙ্গে বাজারে আসা অবস্থায় একজন ব্যক্তি এ ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন, এটা স্বাভাবিক নয়।

একদিকে তানিয়ার পক্ষ থেকে যৌতুক, শারীরিক-মানসিক নির্যাতন ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, অন্যদিকে শ্বশুরের পক্ষ থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার পাল্টা অভিযোগ, দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে ২০২১ সালে প্রথম বিয়ে ও কাবিননামা হয়ে থাকলে পরবর্তী কাবিননামার প্রয়োজন কেন হয়েছিল, ২০২৩/২০২৪ সালের বিয়ের দাবির প্রকৃত ভিত্তি কী, একজনের বিয়ে কেন কি কারণে একই কাবননামায় করা হয়েছে এর মধ্যে কাদের ইন্ধন আছে এমন প্রশ্ন সচেতন মানুষের মনে। প্রথম পর্ব সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ২য় পর্বে থাকবে বিস্তারিত।