Dhaka 3:11 am, Thursday, 29 October 2026
ন্যায্য দাম, কৃষি উপকরণে সিন্ডিকেট বন্ধসহ কৃষকের অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে কৃষক সমিতি।

কৃষক বাঁচাতে পার্বতীপুরে কৃষক সমিতির আন্দোলন 

স্টাফ রিপোর্টার ঃ কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের সংকট নিরসন, কৃষি উৎপাদন খরচ কমানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের দাবিতে জাতীয় কৃষক সমিতি পার্বতীপুর উপজেলা কমিটি আজ ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৪২ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। জানা গেছে, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বারোকোনা বাজার থেকে স্মারকলিপি প্রদান করেন জাতীয় কৃষক সমিতি পার্বতীপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি আবু তালেব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক জাকির হোসেন। সদস্য শিরিষ ডাক্তার, নৈশ টুডু , আজিবর রহমান, সনাতন হালদাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। কৃষক আজ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি কৃষি। কিন্তু কৃষক সমাজ প্রতিকূল আবহাওয়া, উৎপাদন উপকরণের উচ্চমূল্য, বাজার ব্যবস্থার অনিয়ম এবং মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের মধ্য দিয়ে কৃষি উৎপাদন করে যাচ্ছে। একদিকে সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলের নায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রকৃত কৃষক ও ক্ষেতমজুররা ঋণগ্রস্ত ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। পাটসহ বিভিন্ন বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব কৃষকের স্বার্থ ধ্বংস করছে।

এছাড়া কৃষি কার্ড ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিতরণে দলীয়করণের অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের কারণে কৃষকের স্বাভাবিক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। তারা ৬ দফা দাবি পেশ করেন।

কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের স্বার্থ রক্ষায় ৬ দফা দাবিগুলো- সার,ডিজেল, বিদ্যুৎ সহজলভ্য নিশ্চিত করতে হবে। দলবাজি ডিলার সিন্ডিকেট বন্ধ, সারের কালোবাজারি রোধ করতে হবে। পাটের লাভজনক মুল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি কার্ড বিতরণে দলীয়করণ বন্ধ করে প্রকৃত কৃষক -ক্ষেতমজুরের হাতে দিতে হবে। গ্রামীণ রেশনিং ব্যবস্হা চালু করতে হবে। চাঁদাবাজি -সন্রাস বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতে হবে। উক্ত কমিটির তথ্য মতে জাতীয় কৃষক সমিতি পার্বতীপুর উপজেলা কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ৫০ জন। বর্তমানে উপজেলার ৭, ৮ ও ১০ নং ইউনিয়নে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।এই প্রতিবেদককে নেতৃবৃন্দ বলেন, “কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভিসার প্রলোভনে লিবিয়ায় মানবপাচার? উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বন্দিত্ব, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ—নেপথ্যে কারা?

ন্যায্য দাম, কৃষি উপকরণে সিন্ডিকেট বন্ধসহ কৃষকের অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে কৃষক সমিতি।

কৃষক বাঁচাতে পার্বতীপুরে কৃষক সমিতির আন্দোলন 

Update Time : 04:26:59 pm, Sunday, 6 September 2026

স্টাফ রিপোর্টার ঃ কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের সংকট নিরসন, কৃষি উৎপাদন খরচ কমানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের দাবিতে জাতীয় কৃষক সমিতি পার্বতীপুর উপজেলা কমিটি আজ ৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৪২ মিনিটে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। জানা গেছে, উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের বারোকোনা বাজার থেকে স্মারকলিপি প্রদান করেন জাতীয় কৃষক সমিতি পার্বতীপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি আবু তালেব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক জাকির হোসেন। সদস্য শিরিষ ডাক্তার, নৈশ টুডু , আজিবর রহমান, সনাতন হালদাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। কৃষক আজ ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি কৃষি। কিন্তু কৃষক সমাজ প্রতিকূল আবহাওয়া, উৎপাদন উপকরণের উচ্চমূল্য, বাজার ব্যবস্থার অনিয়ম এবং মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের মধ্য দিয়ে কৃষি উৎপাদন করে যাচ্ছে। একদিকে সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে উৎপাদন খরচ বাড়ছে। অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলের নায্য মূল্য না পাওয়ায় প্রকৃত কৃষক ও ক্ষেতমজুররা ঋণগ্রস্ত ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। পাটসহ বিভিন্ন বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব কৃষকের স্বার্থ ধ্বংস করছে।

এছাড়া কৃষি কার্ড ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা বিতরণে দলীয়করণের অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের কারণে কৃষকের স্বাভাবিক উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। তারা ৬ দফা দাবি পেশ করেন।

কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের স্বার্থ রক্ষায় ৬ দফা দাবিগুলো- সার,ডিজেল, বিদ্যুৎ সহজলভ্য নিশ্চিত করতে হবে। দলবাজি ডিলার সিন্ডিকেট বন্ধ, সারের কালোবাজারি রোধ করতে হবে। পাটের লাভজনক মুল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষি কার্ড বিতরণে দলীয়করণ বন্ধ করে প্রকৃত কৃষক -ক্ষেতমজুরের হাতে দিতে হবে। গ্রামীণ রেশনিং ব্যবস্হা চালু করতে হবে। চাঁদাবাজি -সন্রাস বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতে হবে। উক্ত কমিটির তথ্য মতে জাতীয় কৃষক সমিতি পার্বতীপুর উপজেলা কমিটির মোট সদস্য সংখ্যা ৫০ জন। বর্তমানে উপজেলার ৭, ৮ ও ১০ নং ইউনিয়নে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।এই প্রতিবেদককে নেতৃবৃন্দ বলেন, “কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলে জানান।