Dhaka 4:07 am, Thursday, 29 October 2026
ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর মেদা কালীবাড়ী, উৎসবের আমেজে জমজমাট পুরো প্রাঙ্গণ।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মেদা কালীবাড়ীতে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম

পাবনা জেলা প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভাঙ্গুড়ার মেন্দা কালীবাড়ী মন্দির অঙ্গনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও পৌর কমিটির উদ্যোগে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রার্থনা ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় দিনটি পালিত হয়।

জন্মাষ্টমীর এ আয়োজনে ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক সমরজিৎ গুন, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক প্রলয় কুমার বিশ্বাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ভবেশ চন্দ্র দে, সাধারণ সম্পাদক বাবু মলয় কুমার দেবসহ বিভিন্ন মন্দিরের সভাপতি-সম্পাদক এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী আয়োজনে মেদা কালীবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মিলনমেলায়। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তদের আগমন শুরু হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগমে অনুষ্ঠানস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ ও তাঁর দেওয়া ন্যায়, সত্য, মানবতা ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার শিক্ষা তুলে ধরেন। তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়; তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে মানবসমাজ শান্তি, ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার শিক্ষা নিতে পারে।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অধর্ম ও অন্যায়ের বিনাশ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাই প্রতিবছর ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তাঁর জন্মতিথি জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন।

আয়োজকরা জানান, শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবকল্যাণের বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

উৎসব শেষে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। প্রসাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জন্মাষ্টমীর এ বর্ণাঢ্য আয়োজন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জন্মাষ্টমীর আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবধারায় অংশগ্রহণ করায় সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,ভাঙ্গুড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায় মোঃ শাহিনুর রহমান (শাহিন)

এ সময় তিনি জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানকে ঘিরে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সার্বিকভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সম্প্রীতির বার্তায় ভাঙ্গুড়ার মেদা কালীবাড়ীতে উদযাপিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসবটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন ও স্মরণীয় ধর্মীয় আয়োজনে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভিসার প্রলোভনে লিবিয়ায় মানবপাচার? উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বন্দিত্ব, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ—নেপথ্যে কারা?

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর মেদা কালীবাড়ী, উৎসবের আমেজে জমজমাট পুরো প্রাঙ্গণ।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে মেদা কালীবাড়ীতে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম

Update Time : 02:37:42 pm, Friday, 4 September 2026

পাবনা জেলা প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভাঙ্গুড়ার মেন্দা কালীবাড়ী মন্দির অঙ্গনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও পৌর কমিটির উদ্যোগে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রার্থনা ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় দিনটি পালিত হয়।

জন্মাষ্টমীর এ আয়োজনে ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল, সাধারণ সম্পাদক সমরজিৎ গুন, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি পরিমল কুমার সরকার, সাধারণ সম্পাদক প্রলয় কুমার বিশ্বাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ভবেশ চন্দ্র দে, সাধারণ সম্পাদক বাবু মলয় কুমার দেবসহ বিভিন্ন মন্দিরের সভাপতি-সম্পাদক এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক ভক্ত উপস্থিত ছিলেন।

দিনব্যাপী আয়োজনে মেদা কালীবাড়ী মন্দির প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মিলনমেলায়। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তদের আগমন শুরু হয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের উপস্থিতি। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগমে অনুষ্ঠানস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।

ধর্মীয় আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ ও তাঁর দেওয়া ন্যায়, সত্য, মানবতা ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার শিক্ষা তুলে ধরেন। তারা বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়; তাঁর জীবন ও কর্ম থেকে মানবসমাজ শান্তি, ন্যায়, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার শিক্ষা নিতে পারে।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অধর্ম ও অন্যায়ের বিনাশ এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাই প্রতিবছর ভক্তরা গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে তাঁর জন্মতিথি জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন।

আয়োজকরা জানান, শান্তি, সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব ও মানবকল্যাণের বার্তা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

উৎসব শেষে উপস্থিত ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। প্রসাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় জন্মাষ্টমীর এ বর্ণাঢ্য আয়োজন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জন্মাষ্টমীর আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবধারায় অংশগ্রহণ করায় সকল ধর্মপ্রাণ মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান ভাঙ্গুড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু সংগীত কুমার পাল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন,ভাঙ্গুড়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহবায় মোঃ শাহিনুর রহমান (শাহিন)

এ সময় তিনি জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানকে ঘিরে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সার্বিকভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সম্প্রীতির বার্তায় ভাঙ্গুড়ার মেদা কালীবাড়ীতে উদযাপিত শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসবটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন ও স্মরণীয় ধর্মীয় আয়োজনে।