Dhaka 3:53 am, Thursday, 29 October 2026

শুন্যতা কেবলই শুন্যতা নয়।

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:49:24 pm, Wednesday, 26 August 2026
  • 201 Time View

 

মুনতাছির রহমান সজীব

তরুণ উদ্ভাবক ও এক্টিভিস্ট।

এই বিশাল সৃষ্টিজগতে মানুষের ব্যক্তিসত্তা এক ক্ষণস্থায়ী স্ফুলিঙ্গ মাত্র।

আমরা প্রায়শই নিজেদের অপরিহার্য ভেবে ভুল করি, মনে করি আমাদের অনুপস্থিতি বুঝি এক অমোঘ স্থবিরতা নামিয়ে আনবে।

কিন্তু সত্য এই যে, এই ধরণীর বিশাল ক্যানভাসে কারো অভাবই চিরস্থায়ী জখম হয়ে থাকে না।

স্রষ্টার এক নিগুঢ় ও রহস্যময় বিধান হলো, তিনি কোনো শূন্যতাকে অন্তহীন হাহাকারে পরিণত হতে দেন না।

যে প্রাণস্পন্দন আজ থেমে যায়, কাল সেই স্পন্দনের রেশটুকুও সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়।

আজ আমি না থাকলেও এই মহাবিশ্বের কোনো ছন্দপতন ঘটবে না, স্তব্ধ হবে না জীবনের এই অবিরাম পথচলা।

বরং স্রষ্টা তাঁর অসীম কৌশলে সেই শূন্যস্থানটিতে অন্য কারো অস্তিত্বকে আসীন করবেন।

আমার ভাবনা, আমার কর্ম কিংবা আমার আবেগ, যা কিছু আজ একান্তই আমার মনে হচ্ছে, আমার মহাপ্রস্থানের পর সেখানে অন্য কোনো হৃদয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রকৃতির এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া অতি নিঃশব্দে সম্পন্ন হয়।

মহান রব্বুল আলামিন মানুষের হৃদয়ে যেমন বিরহ দিয়েছেন, ঠিক তেমনি দিয়েছেন বিস্মৃতির এক অদ্ভুত নিরাময় শক্তি।

ফলে একজন মানুষের প্রস্থান মানেই অন্য কারো আগমনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়া।

এই চিরন্তন আবর্তনে আমরা কেবল একেকজন সাময়িক যাত্রী।

আমার না থাকা মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং আমার শূন্যতা অন্য কারো পূর্ণতা দিয়ে ঢেকে ফেলাই হলো মহাকালের চিরায়ত নীতি।

পৃথিবীতে কেউ কারো জন্য আটকে থাকে না, আর কোনো অভাবই অপূরণীয় থাকে না, স্রষ্টার অমোঘ প্রেমে সব শূন্যতাই একদিন কোনো না কোনোভাবে পূর্ণতা পায়।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

ভিসার প্রলোভনে লিবিয়ায় মানবপাচার? উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বন্দিত্ব, মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ—নেপথ্যে কারা?

শুন্যতা কেবলই শুন্যতা নয়।

Update Time : 10:49:24 pm, Wednesday, 26 August 2026

 

মুনতাছির রহমান সজীব

তরুণ উদ্ভাবক ও এক্টিভিস্ট।

এই বিশাল সৃষ্টিজগতে মানুষের ব্যক্তিসত্তা এক ক্ষণস্থায়ী স্ফুলিঙ্গ মাত্র।

আমরা প্রায়শই নিজেদের অপরিহার্য ভেবে ভুল করি, মনে করি আমাদের অনুপস্থিতি বুঝি এক অমোঘ স্থবিরতা নামিয়ে আনবে।

কিন্তু সত্য এই যে, এই ধরণীর বিশাল ক্যানভাসে কারো অভাবই চিরস্থায়ী জখম হয়ে থাকে না।

স্রষ্টার এক নিগুঢ় ও রহস্যময় বিধান হলো, তিনি কোনো শূন্যতাকে অন্তহীন হাহাকারে পরিণত হতে দেন না।

যে প্রাণস্পন্দন আজ থেমে যায়, কাল সেই স্পন্দনের রেশটুকুও সময়ের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়।

আজ আমি না থাকলেও এই মহাবিশ্বের কোনো ছন্দপতন ঘটবে না, স্তব্ধ হবে না জীবনের এই অবিরাম পথচলা।

বরং স্রষ্টা তাঁর অসীম কৌশলে সেই শূন্যস্থানটিতে অন্য কারো অস্তিত্বকে আসীন করবেন।

আমার ভাবনা, আমার কর্ম কিংবা আমার আবেগ, যা কিছু আজ একান্তই আমার মনে হচ্ছে, আমার মহাপ্রস্থানের পর সেখানে অন্য কোনো হৃদয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রকৃতির এই প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া অতি নিঃশব্দে সম্পন্ন হয়।

মহান রব্বুল আলামিন মানুষের হৃদয়ে যেমন বিরহ দিয়েছেন, ঠিক তেমনি দিয়েছেন বিস্মৃতির এক অদ্ভুত নিরাময় শক্তি।

ফলে একজন মানুষের প্রস্থান মানেই অন্য কারো আগমনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়া।

এই চিরন্তন আবর্তনে আমরা কেবল একেকজন সাময়িক যাত্রী।

আমার না থাকা মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং আমার শূন্যতা অন্য কারো পূর্ণতা দিয়ে ঢেকে ফেলাই হলো মহাকালের চিরায়ত নীতি।

পৃথিবীতে কেউ কারো জন্য আটকে থাকে না, আর কোনো অভাবই অপূরণীয় থাকে না, স্রষ্টার অমোঘ প্রেমে সব শূন্যতাই একদিন কোনো না কোনোভাবে পূর্ণতা পায়।