কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
আসন্ন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার নারী শক্তির সদস্য সচিব ও নারী উদ্যোক্তা মেরিনা পারভীন। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণ ও সুধীজনের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি এই ঘোষণা দেন। দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম সদর ও এর আশপাশের এলাকায় নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের নিজ হাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। একজন সফল ট্রেইনার ও নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের সেবা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাকে একটি আধুনিক, মানবিক ও মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তার মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে নারী সমাজ, শিশু এবং প্রবীণ নাগরিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক ও বেকার নারীদের জন্য উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে সার্বিক সহায়তা প্রদান করা। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলাকে মাদকমুক্ত, বাল্যবিবাহহীন, যৌতুকমুক্ত ও নারী নির্যাতনমুক্ত একটি নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে জনসচেতনতা সৃষ্টি করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও সমাজের অসহায়, স্বামী-পরিত্যক্তা, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও সেবা প্রাপ্তি সহজলভ্য করতে তিনি সবসময় সহযোগিতা করবেন। যুবসমাজকে ধ্বংসাত্মক পথ থেকে দূরে রেখে তথ্যপ্রযুক্তিগত দক্ষতা, খেলাধুলা ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং শতভাগ স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাই তার অন্যতম ব্রত।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মেরিনা পারভীন জানান, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন বা না হোন—রাজনীতির গণ্ডির বাইরেও তিনি অতীতে সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে ছিলেন, বর্তমানেও আছেন এবং ভবিষ্যতেও আজীবন জনগণের সেবক হয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে পাশে থাকবেন। উন্নয়ন, ন্যায়বিচার ও মানবিক সেবার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা গড়ে তোলার এই যাত্রায় তিনি কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের দোয়া, ভালোবাসা ও মূল্যবান সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করেছেন।