পাবনা নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মোছাঃ রোজিনা খাতুন (৫৫) নামের এক বিধবা নারীর মৃত্যু কান্ড নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের ঘটনা ঘটেছে। নিহত রোজিন খাতুন উপজেলা চরভাঙ্গুড়া এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। গত ১৭ অক্টোবর তার স্বামীর বসত বাড়ি হতে ঝুলান্ত মরদেহ উদ্ধারের পর ওই মহিলার আপন ভাই ও বেহাউলিয়ার বাসিন্দা দোলাায়ার হোসেন প্রথমে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে হত্যার অভিযোগ আনেন এবং মানববন্ধন করে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবী জানান। এর কয়েকদিন পর গত ২৪ অক্টোবর চরভাঙ্গুড়া খাঁপাড়া এলাকার মোঃ রাশিদুল ইসলাম, পিতা-মোঃ এনামুল হক অপর এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দোলোয়ারের মিথ্যা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছাড়ানের অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ বলেছেন, থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়না তদন্তের রির্পোট হাতে আসলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ যানা যাবে।
চরভাঙ্গুড়া খাঁপাড়া এলাকায় নিহতে স্বামী রফিকুলের ভাতিজা রাশিদুল ইসলাম জানান, ‘ আমার চাচি মোছাঃ রোজিনা খাতুন (৫৫) স্বামী মৃতঃ রফিকুল ইসলাম । বিগত প্রায় ৩২ বছর পূর্বে আমার চাচা রফিকুল ইসলামের সাথে রোজিনা খাতুন এর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। তারপর থেকে আমরা একত্রে মিলেমিশে বসবাস করতাম। আমার চাচার সাংসারিক জীবনে আমার একটা চাচতো বোনের জন্ম হয়। আমার চাচাতো বোনের নাম শাম্মী আক্তার বৃষ্টি। সে তার স্বামীর সাথে বগুড়ায় বসবাস করে। বিগত ০২/০৪/২০২৬ তারিখে আমার চাচা ইন্তেকাল করেন।’
ভাতিজা রাশিদুল ইসলাম আরো জানান, ‘আমার চাচার মৃত্যুর পূর্বেই তার সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি তার একমাত্র কন্যা শাম্মী আক্তার বৃষ্টি খাতুনকে লিখে দেন। আমার চাচার মৃত্যুর পর চাচী একাকী ও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে। আমরা যতটুকু সম্ভব তার সাথে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু তিনি বেশির ভাগ সময় নিজ বাড়িতে একাই নিজের মত থাকতেন। কিন্তু হঠাৎ গত ১৭/১০/২০২৬ তারিখে রাতে তার নিজ বসত ঘরের দরজা খোলারেখে ঘরের আড়ার সাথে গলায় রশি পেঁপিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ব্যাপারে আমি আমার ফুফাতে বোনের ফোনের মাধ্যমে জানতে পারলাম। আমি তখন আমার শ্বশুর বাড়ী স্ত্রী সন্তানসহ অবস্থান করছিলাম। ঘটনাটি জানার সাথে সাথে তড়িঘড়ি করে বাড়িতে চলে আসি। আসার পরে দেখি বাড়িতে প্রশাসনসহ অনেক মানুষের ভিড় এবং মৃত আমার চাচীকে প্রশাসনের উপস্থিতিতে লোকজনের সহায়তায় তাকে নিচে নামানো হয়েছে। পরবর্তীতে লাশ প্রশাসনের সিদ্ধান্তে থানায় নেয়া হয়। তারপর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়। ময়না তদন্তের শেষে প্রশাসনের মাধ্যমে আমাদের কাছে লাশ হস্তান্তরের পর আমরা দাফনের সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ করি। লাশ দাফনশেষে বাড়িতে ফিরেই আমার চাচীর ভাই ও আত্মীয় স্বজনের আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তার প্রমাণ ও ফুটেজ আমাদের সংগ্রহে আছে। এমতাবস্থায় আমরা নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমাদের উপর দোষারোপ করে আমাদের সম্মান হানি করছে। কিন্তু এই মৃত্যু সংক্রান্ত ঘটনাটির সাথে আমাদের কারো কোনো প্রকারের সংশ্লিষ্টতা নেই।’
ভাতিজা রাশিদুল ইসলাম এও জানান ‘যেহেতু আমার চাচার সম্পত্তি তার মেয়ের নামে লিখে দেয়া আছে, এবং আমার চাচার নগদ ও স্বর্ণালংকার আমার চাচীর ভাইদের কাছে ছিল। আমার চাচীর মৃত্যুর ঘটনার ৪/৫ দিন আগে আমার চাচার গচ্ছিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার আমার চাচীর ভাইয়ের নিকট হইতে আনতে যায়। কিন্তু আমার চাচীর সেই গচ্ছিত অর্থ ও স্বর্ণালংকার আমার চাচীর ভাইয়েরা তাকে না দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে হয়তো বা আমার চাচী পূর্ব থেকে একাকি থাকা এবং চাচীর ভাইদের কথার কারণে আত্মহত্যা করেছেন মর্মে আমাদের ধারণা।’
সংবাদ সম্মেলনে রাশিদুল ইসলাম আরো অভিযোগ করেন, মোঃ দেলোয়ার হোসেন (দুলাল), পিতা মৃতঃ রশিদ মোঃ হেলাল হোসেন, পিতা মৃতঃ আব্দুর রশিদ মোঃ সোহেল রানা, পিতা মৃতঃ আঃ রশিদ, সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩জন,সর্ব সাং- বেড়হাউলিয়া, থানাঃ ফরিদপুর, জেলাঃ পাবনা তারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে আমাদের মানহানি করেছেন।
এর আগে নিহত ওই নারীর ভাই দোলোযার হোসেন ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবে একং সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগ করেছিলেন যে,পারিবারিক সম্পত্তি দখল, বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, মানসিক নির্যাতন ও হুমকি এনে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর সন্দেহ, সম্পত্তি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের যোগসাজশে তাঁর বোনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পর সুরত হাল প্রতিবেদন শেষে হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে এবং থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ৩০২ ও ৩০৬ ধারায় মামলা করতে হলে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ প্রয়োজন যা তাদের অভিযোগ পত্রে ছিল না। তবে পোস্ট মডেম এর রির্পোট আসলেই যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।