পাবনা প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় কথিত মধুচক্রের মাধ্যমে অর্থবিত্তশালী ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া এলাকার রাঙ্গালিয়া অঞ্চলের বিএনপি নেতা সোহেল ও তাঁর স্ত্রী শিখাকে ঘিরে এ অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সুজাপাড়া এলাকার আজিজ ভিলায় হাঁস পালনের আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনার পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিদের ডেকে এনে অর্থ আদায়ের ফাঁদ তৈরি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরিদপুর উপজেলার এক ভুক্তভোগী বলেন, দূরদূরান্তের অর্থবিত্তশালী ব্যক্তিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে আনা হয়। পরে তাঁদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলে সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয় এমন অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক বলে জানা গেছে। তাঁদের পরিচয় প্রকাশ পেলে পারিবারিক, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তাঁরা নীরব রয়েছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে অভিযোগের আড়ালে কাউকে হয়রানি বা মিথ্যা অভিযোগে জড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসতে পারে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মতিন বলেন, বিএনপি করে ঠিক আছে ওর হলো আচার-আচরণ ও চলাফেরা খারাপ, ও একাধীক বিয়ে করেছে। কয়েকদিন আগে মারামারি করে জেলে গিয়েছিলো, বিভিন্ন লোকজনকে বিভিন্ন কার্ড করে দেওয়ার কথাও বলেছে। গিল্টি মানুষ অনেক সময় সত্য মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য বলে। আমি ভগ্নপতি বলে যে ঘটনা ঘটছে সেই ঘটনাকে আমি সমর্থন করি না। প্রমাণের জন্য অনেক সময় অনেক মিথ্যার আশ্রয় নেয় আমি সেইটা সাপোর্ট করি না। দোষী যেই হোক অথবা অপরাধী যেই হোক শাস্তি হওয়া দরকার। অর্থনৈতিক বিষয়টা তো আছে তবে তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। আরো একটা কথা ১৪ বছর বলছে কিন্তু ঐ মেয়ের বয়স কমপক্ষে ২২ বছর।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা সোহেল বলেন, এলাকার মানুষ ধরেছে আমরা এসেছি। আমরা বিয়ে দেওয়ার কথা বললে তিনি বলেন, মেয়েটার বয়স ১৪ বছর, তবে পরিবারের লোকজন আসতিছে বলে জানান এই বিএনপি নেতা।
বিএনপি নেতা সোহেলের স্ত্রী শিখাকে সাংবাদিক এর নাম পরিচয় গোপন করে ছদ্দনামে কল দিয়ে ভুক্তভোগীর নাম বললে তিনি চিনি না বলে ফোনকল কেটে দেন। পরবর্তীতে আবারো কল দিলে আর ফোন কল রিসিভ করেন না। হয়তো গতকালের ঘটনা ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণেই কারো সাথে আর কথা সেই সক্ষতায় বলছেন না।
তবে অপকর্ম করার সময়ে স্পর্শ কাতর অবস্থায় ঐ ভিডিওতে নারী থাকলেও অন্তরঙ্গ মূহূর্তে কিন্তু ঐ নারীর শরীর থেকে বোরখা খোলা হয় নাই, পরবর্তীতে আর ঐ নারীকে সরিয়ে অন্যত্র রাখা হয়েছে।
প্রশ্ন একটাই উঠেছে, ভুক্তভোগী গতকাল ধরা পরেছে বিকাল তিনটার দিকে কিন্তু কোন প্রকার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় নাই। রাত আটটা পর্যন্ত একই রুমে তালা বদ্ধ করে রাখা হয়েছে কিন্তু পাশে ঐ অপকর্ম করা কোন নারীকে রাখা হয় নাই।
এ বিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আজম বলেন, এই প্রথম আমি বিষয়টি জানলাম। কেউ আমাকে কিছু বলেনি বা অবগত করেনি। কোনো সূত্র থেকেও এ ধরনের তথ্য আমার কাছে আসেনি। যিনি হ্যানিট্র্যাপের শিকার হয়েছেন, তিনি তো থানায় আসেননি। তাঁকে একটি অভিযোগ করতে বলেন।
ভুক্তভোগীর সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কা থেকে অভিযোগ করতে অনীহার বিষয়টি তুলে ধরলে ওসি বলেন, ঠিক আছে, সম্মানের ভয় থাকলে তিনি অভিযোগ করবেন না। হ্যানিট্র্যাপে তো উভয় পক্ষই মধু খেতে গিয়ে ফাঁদে পড়ে।
অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সাধারণ মানুষের মাঝে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান ও অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথা না বলে ‘মধু খেতে গিয়ে ফাঁদে পড়া’র উপমা সামনে আসায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোনো অভিযোগ থানায় না এলেও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আইনসম্মতভাবে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা ঝড় বইছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
অভিযোগের গুরুত্ব যাচাই না করে বিষয়টিকে উভয় পক্ষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হলে ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে সামাজিক সম্মানহানি, ভয়ভীতি কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আশঙ্কায় কেউ থানায় যেতে সাহস না পেলে, সে ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশের বক্তব্য যদি অপরাধ প্রতিরোধের পরিবর্তে বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার বার্তা দেয়, তাহলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে, এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এ ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা যাচাই, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং অভিযোগের সত্যতা অনুসন্ধান করা জরুরি।
এদিকে, ভুক্তভোগীকে অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের মাধ্যমে এ বিষয়ে অভিযোগ করতে বলার বিষয়টি নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগীর বক্তব্য, নিরাপত্তা ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে আইনগত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে এখন প্রশ্ন, হ্যানিট্র্যাপের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের ভূমিকা কী হওয়া উচিত? অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা, নাকি প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আইনসম্মতভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া, এ বিষয়ে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
কাউকে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সম্মানহানি করা নয়, সত্য ঘটনা ঘটে চলেছে তাই সাধারণ মানুষকে সতর্কতা করাই আমাদের বার্তা। মধুচক্র থেকে বিরত থাকাই যার যার জায়গা থেকে দায়িত্ব সবার। একটা চক্রের কারণে আমার আপনার জীবন চলে যেতে পারে ধবংসের মুখে।