
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে জ্যোতি খাতুন (১৭) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাঁর মরদেহ পরিবারের সদস্যরা নিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনেরা তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত জ্যোতি খাতুন ফরিদপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাউৎনাগধাপাড়া গ্রামের যুবায়ের রহমানের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অল্প বয়সেই বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া নতুন প্যাঁচাকোলা এলাকার রাজু চৌকিদারের ছেলে আরিফুল ইসলামের (২০) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে জ্যোতিকে বিভিন্ন সময়ে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো। মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় পরিবারের পক্ষ থেকে দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও আরও যৌতুক দাবি করা হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বুধবার সকাল ৮টার দিকে এক প্রতিবেশীর ফোনে তাঁরা জ্যোতির মৃত্যুর খবর পান। পরে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাঁর নিথর মরদেহ দেখতে পান। স্বজনদের দাবি, সে সময় হাসপাতালে জ্যোতির পাশে পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের একপর্যায়ে জ্যোতিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। পরে ঘটনাটি আড়াল করার উদ্দেশ্যে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাসপাতাল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ পরিবারের।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে জ্যোতির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনেরা।
নিহতের পরিবারের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জ্যোতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।