
কলমের দর্পণ ডেক্স :
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের দিয়ারপাড়া রসুলপুর এলাকায় একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অস্ত্রটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে প্রমাণ সংগ্রহের সময় স্থানীয় এক ব্যক্তির বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অস্ত্রটি ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে বা গায়েব করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ভবানীপুর ইউনিয়নের রসুলপুর পাড়ায় আব্দুল মালেকের কাছে দেশীয় অস্ত্র থাকার খবর স্থানীয়রা প্রশাসনকে জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি দেশীয় হাসুয়া ও একটি লাঠি উদ্ধার করে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অস্ত্রটি রাখা হয়েছিল বলে আব্দুল মালেক পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছে দাবি করেন। তিনি জানান, তারা চার ভাই এবং তাদের নানির বাড়ি যশোরে। তিন ভাই ভবানীপুরের দিয়ারপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। পারিবারিক জমিজমা বিরোধের কারণে অস্ত্রটি রাখা হয়েছিল বলে তার বক্তব্য।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামাল হোসেন বলেন, সকালে মালেক নামের এক ব্যক্তি ফোন করে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কথা জানিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি একটি দেশীয় অস্ত্র দেখতে পান।
কামাল হোসেনের দাবি, তিনি অস্ত্রটির ছবি তুলতে গেলে স্থানীয় মোঃ মুকুল হোসেন, পিতা মৃত ইমদাদ আলী—যাকে স্থানীয়ভাবে সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের ভাগিনা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়—ছবি তুলতে বাধা দেন। তার অভিযোগ, অস্ত্রটি জব্দ করা এবং ছবি-ভিডিওসহ প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।
কামাল হোসেন পরে বিষয়টি ভাঙ্গুড়া থানার ওসিকে জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করে জব্দ করে নিয়ে যায় বলে তিনি জানান।
উদ্ধার হওয়া হাসুয়া ও লাঠির মালিকানা, এগুলো কোথা থেকে এসেছে, কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল এবং কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল কি না—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, কৃষকদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা এবং এলাকাবাসী ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ সাম্প্রতিক সময়ে ভবানীপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিং হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি করেন।
তবে আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচি বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি/গোষ্ঠীর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল বারী, উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আব্দুল কালাম, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক তিতুমীর জিহাদিসহ স্থানীয়রা জানান, ভবানীপুরে এ ধরনের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা আগে তাদের নজরে আসেনি।
তাদের বক্তব্য, অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে শুধু পারিবারিক জমিজমা বিরোধ হিসেবে দেখলেই হবে না; অস্ত্রটির উৎস, মালিকানা ও সম্ভাব্য ব্যবহার—সবকিছুই নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ সাকিউল আজম বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে একটি দেশীয় হাসুয়া ও লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। কী কারণে এবং কার উদ্দেশ্যে অস্ত্রটি রাখা হয়েছিল, তা তদন্ত করে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
একটি দেশীয় হাসুয়া ও লাঠি উদ্ধার—ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট হলেও অস্ত্রের মালিকানা, রাখার উদ্দেশ্য, ছবি-ভিডিও ধারণে বাধার অভিযোগ এবং এর সঙ্গে কোনো বৃহত্তর ঘটনার যোগসূত্র আছে কি না—এসব প্রশ্নে তৈরি হয়েছে নতুন কৌতূহল।
এখন দেখার বিষয়, তদন্তে বেরিয়ে আসে কি না—অস্ত্রগুলো নিছক জমিজমা বিরোধের জেরে রাখা হয়েছিল, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অজানা ঘটনা।