মোঃ হাসান মাহমুদ জয় স্টাফ রিপোর্টার
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মোঃ এনামুল হক অন্তর (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২৬) রাত ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ যৌথ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন ও সুনির্দিষ্ট সংবাদের ভিত্তিতে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার তিল্লাই ইউনিয়নের আসাদমোড় এলাকার বিএসসি পাড়ায় ময়েন আলীর ছেলে এনামুল হকের বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিকালে বাড়ির হাঁস-মুরগির খোঁয়াড়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় আইফোন, মটোরোলা, অপ্পো, রেডমি, রিয়েলমি এবং ভিভোসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৫৫টি ভারতীয় ব্যবহৃত বিলাসবহুল মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত এসব মোবাইলের আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের এএসপি মুনতাসির মামুন মুনের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বে এই সফল অভিযানে পুলিশের আভিযানিক দলে আরও অংশ নেন থানার এসআই সাইফুল ইসলাম, এসআই আল-আমিন এবং এসআই আসাদুজ্জামান। পাশাপাশি কুড়িগ্রাম-২২ বিজিবির অধীন ধলডাঙ্গা ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মোঃ মতিউর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি টিম এই যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে অংশ নেয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারত ও বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতে চুরি বা ছিনতাই হওয়া এসব ফোন সীমান্ত টপকে বাংলাদেশে পাচার করে আসছিল। বৈধ আইএমইআই (IMEI) রেজিস্ট্রেশনবিহীন এসব চোরাই ফোন আসাদমোড় কেন্দ্রিক আখড়া থেকে রংপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হতো। অপরাধী চক্র এসব রেজিস্ট্রেশনহীন ফোন ব্যবহার করে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে ধারণা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
এই সফল অভিযানের বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন জানান, "আসাদমোড় এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারিদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবির সহযোগিতায় সুপরিকল্পিতভাবে এই সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সীমান্ত ও সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ দমনে বিজিবি ও পুলিশের এমন যৌথ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।