জ্বালানি লোডিংয়ে নতুন যুগের সূচনা, তবে শঙ্কা কাটেনি এখনো
নিজস্ব প্রতিনিধি: মোঃ গোলাম মোস্তফা, পাবনা । পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র–এ শুরু হলো ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। ইউনিট-১-এ জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ প্রবেশ করল পারমাণবিক শক্তির যুগে। দীর্ঘ ৬৭ বছরের অপেক্ষা, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের নানা বাধা পেরিয়ে অবশেষে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে স্বপ্নের এই প্রকল্প।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে প্রাথমিকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। পর্যায়ক্রমে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার এই সময়ে এটি দেশের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে আশার পাশাপাশি শঙ্কাও কম নয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন যেমন শক্তিশালী ও আধুনিক সমাধান, তেমনি এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ খাত। সামান্য অব্যবস্থাপনা, দুর্বল তদারকি কিংবা দক্ষতার ঘাটতি বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করছে তিনটি মূল বিষয়ের ওপর—সুশাসন, দক্ষ জনবল এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর যেকোনো একটির ঘাটতি পুরো উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, প্রকল্পের ব্যয়, বিদেশি ঋণ এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। উৎপাদিত বিদ্যুৎ কতটা সাশ্রয়ী হবে এবং তা সাধারণ মানুষের নাগালে থাকবে কিনা—এ বিষয়গুলোও এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
একদিকে এটি দেশের জ্বালানি খাতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিতে পারে, অন্যদিকে সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকলে এটি হয়ে উঠতে পারে ঝুঁকির কারণ।
রূপপুর এখন শুধু একটি বিদ্যুৎ প্রকল্প নয়—এটি একটি জাতির সক্ষমতা, সততা ও সুশাসনের কঠিন পরীক্ষা।
সফল হলে এটি হবে শক্তির বিপ্লবের প্রতীক, আর ব্যর্থ হলে—অজানা আশঙ্কার এক নতুন অধ্যায়।