স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা:
পাবনা জেলায় গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র, গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জেলা পুলিশ সুপার মোহামাদ আনোয়ার জাহিদ-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ রেজিনুর রহমান-এর তত্ত্বাবধানে ডিবির একটি চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির অফিসার ইনচার্জ মোঃ রাশিদুল ইসলাম।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের কুমিল্লী গ্রামে মোঃ আফজাল হোসেন (৬০)-এর বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়—
১টি দুইনলা বন্দুক, ২টি বিদেশি পিস্তল (৭.৬৫ মি.মি.), ৪ রাউন্ড গুলি (লোডেড অবস্থায়) এবং একটি মোবাইল ফোন।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃত আসামীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা পৌর এলাকার রূপকথা রোডের বোরহান মার্কেটে তার দোকানে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরী ও মেরামতের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সাইজের ট্রিগার, ক্লিপ, স্প্রিং, ফায়ারিং পিন, অস্ত্রের ব্যারেল, .২২ বোরের গুলি ও খোসা, একটি একনলা বন্দুকের বডি এবং একটি ড্রিল মেশিন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামী উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জামের কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তার প্রদর্শিত ট্রেড লাইসেন্সে সেলাই মেশিন ও এয়ারগান মেরামতের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তিনি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র মেরামত, তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত মোঃ আফজাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে Arms Act, 1878 এর ১৯এ/১৯(এফ) ধারায় পাবনা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিযানে অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।