স্টাফ রিপোর্টার,হুমায়ুন রাশেদ,পাবনা
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হকের মেয়ে ও সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের মেধাবী ছাত্রী মুক্তি খাতুনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে। রায় ঘোষণার ঠিক আগ মুহূর্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ আপোস-বাণিজ্যের অভিযোগ, যেখানে ৩৯ লাখ টাকার বিনিময়ে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি)-এর বিরুদ্ধে।
মামলার বাদী ও নিহত মুক্তির বাবা মো. সালামের এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ পায়। তিনি অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে পিপির মাধ্যমে একটি গোপন সমঝোতা করা হয়, যার অংশ হিসেবে ৩৯ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার জমা দেওয়া হয় পিপির অ্যাকাউন্টে।
বাদীর দাবি, এই অর্থের মধ্যে ৩ লাখ টাকা পিপিকে ব্যক্তিগত ‘খরচ’ হিসেবে দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ৩৬ লাখ টাকা তার পাওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত তিনি এক টাকাও পাননি।
মুক্তি হত্যা মামলাটি দায়ের করা হয় ৩৫ জন আসামির বিরুদ্ধে। মামলার শুরু থেকেই বাদীপক্ষকে মামলা তুলে নিতে চাপ, হুমকি এবং হয়রানির অভিযোগ ছিল। এমনকি বাদীর বিরুদ্ধে পাল্টা ৩২টি মামলা দায়ের করা হয় বলে জানান তিনি।
বাদী মো. সালাম বলেন, “মেয়ের হত্যার বিচার চেয়েছিলাম। কিন্তু জীবন বাঁচাতে আপোসে বাধ্য হয়েছি। এখন দেখি—বিচারও পাইনি, টাকাও পাইনি।”
এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের হত্যার বিচার নিয়েও যদি এভাবে ‘লেনদেন’ হয়, তবে বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এখন সবার দৃষ্টি সেই রায়ের দিকে।