৮ দিন ধরে বন্ধ এক্সকাভেটর, সময়মতো কাজ শেষ নিয়ে চরম শঙ্কা। পাবনা প্রতিনিধি :
পাবনায় জ্বালানি সংকটের কারণে ইছামতী নদীর পুনঃখনন প্রকল্প কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় গত আট দিন ধরে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর)গুলো বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। এতে প্রকল্পের কাজের গতি থমকে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আহাদ বিল্ডার্সসহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা জানান, বাজারে তীব্র জ্বালানি সংকট থাকায় চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কাজ বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে আর্থিক ক্ষতির চাপ। শ্রমিকের মজুরি, যন্ত্রপাতির ভাড়া ও পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্প ব্যয়ও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর বিভিন্ন অংশে এক্সকাভেটরসহ খনন সরঞ্জামগুলো দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। কাজ না থাকায় শ্রমিক ও মেশিনচালকরা অলস সময় পার করছেন।
আটুয়া হাউজপাড়া এলাকায় এক্সকাভেটরচালক জনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“৮ দিন ধরে এক ফোঁটা ডিজেলও পাই না। মেশিন চালানো তো দূরের কথা, বসে বসেই সময় কাটছে। এভাবে কাজ চলবে কীভাবে?”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার এ ধরনের ব্যাঘাতের কারণে প্রকল্পের গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাবনা শহরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে এলেও কাজের অগ্রগতি খুবই ধীর। সময়মতো কাজ শেষ না হলে জনগণের অর্থের অপচয় ছাড়া কিছুই হবে না।
তবে জ্বালানি সংকটকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইছামতী নদী পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রকল্পের পরিচালক সুধাংশু কুমার সরকার। তিনি বলেন,
“জ্বালানি সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, তবে আমরা কাজ বন্ধ করে বসে নেই। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে দ্রুত ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শিগগিরই পুরোদমে কাজ শুরু হবে।”
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং দ্রুত সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মূল সমস্যা এক নজরে
৮ দিন ধরে বন্ধ এক্সকাভেটর
ডিজেল সংকটে পুরো কাজ স্থবির
সময়মতো প্রকল্প শেষ হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা
ব্যয় ও ক্ষতির চাপ বাড়ছে ঠিকাদারদের ওপর